রাজধানীর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি চিরকুট এবং তার মোবাইলের তথ্য বিশ্লেষণে চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছেন তারা। আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি (মিমো) সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমান। ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আসাদুজ্জামান। আসাদুজ্জামান বলেন, শনিবার রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাকে আটক করা হয়। এর আগে বাড্ডা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে মিমোর পরিবার। মিমোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারর্পাসন কাজী তামান্না হক।
এক শোকবার্তায় তামান্না হক লিখেছেন, এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। মুনিরা মাহজাবিন একটি চিরকুটে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ছাড়াও তার ঘনিষ্ঠ এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে গেছেন বলে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।