বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশের পর গ্রেপ্তার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে থাকা কলেজছাত্র মো. আব্দুল্লাহ সিফাত ওরফে বিল্লালের জামিন আবেদন রোববারও করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান কারাগারে গিয়ে সিফাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ওকালতনামায় স্বাক্ষরসহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হওয়ায় এদিন জামিন আবেদন করা যায়নি।
রোববার কাশিমপুর কারাগারে সিফাতের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ মেলে। সাক্ষাতে সিফাত পরিবারের সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি সালাম জানিয়েছেন। নিজের ভাষা প্রয়োগ নিয়ে তিনি বিব্রত হলেও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তার বক্তব্যকে যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন এবং কারাগারে মানসিকভাবে শক্ত রয়েছেন বলে জানান আইনজীবী।
ওকালতনামার তথ্য অনুযায়ী, সিফাতের বিরুদ্ধে গাছা থানার মামলা নং-৫৩ (৬) ২০২৬ রয়েছে। নথিতে তার নাম মো. আব্দুল্লাহ সিফাত ওরফে বিল্লাল, পিতা মো. সিকান্দার আলী। স্থায়ী ঠিকানা শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার গুলমাহস এবং বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাইলকুর, টিনের মসজিদ এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
ওকালতনামায় সিফাতের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান ও অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদলের নামও রয়েছে। এতে মামলাটি পরিচালনা, প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ এবং আদালতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দাখিলের জন্য আইনজীবীকে ক্ষমতা দেওয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ওকালতনামায় সিফাতের স্বাক্ষর নিতে দেরি হয়েছে। ফলে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জামিন আবেদন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সিফাতের আলোচিত বিদ্যুৎ বিল নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্ট মাসে সিফাতদের বাড়ির তিনটি আবাসিক মিটারে মোট বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল আসার বিষয়ে সিফাতের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে অঙ্কের বড় অমিল নেই। তবে বিলটি একটি মিটারের নয়, তিনটি মিটারের সম্মিলিত হিসাব।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্তে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা বিল পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মিটার রিডিং ও বিল তৈরিতে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিলের এই হিসাব নিয়ে সিফাতের পক্ষ ও পল্লী বিদ্যুতের বক্তব্যের মধ্যে মূল পার্থক্য তৈরি হয়েছে বিলের পরিমাণ নয়, বরং তিনটি মিটারের সম্মিলিত হিসাবকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে।
অন্যদিকে সিফাতকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তা নিয়েও শুরু থেকেই আলোচনা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুনের একটি ঘটনার পর দায়ের করা গাছা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটিতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় সিফাত এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না, অজ্ঞাতনামা আসামিদের তালিকা থেকে তাকে সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
এনসিপি সিফাতকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তার মুক্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তে বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় সিফাতের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিলের হিসাব, পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার এবং তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন সিফাত ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সিফাতের আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী কার্যদিবসে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তার জামিন আবেদন করা হবে।