দীর্ঘদিন বন্ধ ঘোষিত স্টেশনের তালিকায় থাকা ১৫৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়ার মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন পুনরায় চালু হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত ১৯ আগস্ট শূন্যপদে তিনজন স্টেশন মাস্টারের বিপরীতে দুইজন স্টেশন মাস্টার যোগদানের মধ্য দিয়ে স্টেশনটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

কুষ্টিয়া-২ মিরপুর ভেড়ামারা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের সফল প্রচেষ্টায় স্টেশনটি চালু হওয়ার পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে এর আশপাশে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্টেশনের ওয়াক্তিয়া মসজিদেও পুনরায় আজান ও নামাজ শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও স্টেশনে আসা যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। কুষ্টিয়ার মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে চলেছে ঐতিহাসিক মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল গফুরের নিরলস ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্টেশনটিতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কেটে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন জেলার অন্যতম প্রাচীন রেলস্টেশন। স্টেশনটি ১৮৬৭ সালে চালু হয়।

স্টেশনটির বর্তমান বয়স ১৫৯ বছর।

ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে রেল যোগাযোগ চালুর পর মিরপুর অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় পরিবর্তন আসে। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে মিরপুর ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।

একসময় স্টেশনটি কুষ্টিয়া জেলার দৃষ্টিনন্দন রেলস্টেশনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও ব্যবসায়িক যোগাযোগে স্টেশনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বর্তমানে মেহেরপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এদিকে স্টেশনের পূর্বপাশে মাহমুদা চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ সড়ক থেকে রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পৌরসভার অর্থায়নে ঢালাই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এতে যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।

তবে স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ ও যাত্রীসেবা আরও উন্নত করতে এখন প্রয়োজন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বিশেষ করে স্টেশনের ওয়াক্তিয়া মসজিদের জন্য একটি মাইক এবং স্টেশনের পূর্বপাশের সিঁড়িতে রেলিং স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্টেশন মাস্টারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব কাজের জন্য বর্তমানে রেলওয়ের কোনো বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয়দের সহায়তায় মসজিদের জন্য মাইক ও সিঁড়িতে রেলিং স্থাপন করা গেলে স্টেশনে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য যে, পূরাতন রেলওয়ে স্টেশনটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। একদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়া, অপরদিকে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বন্ধের উপক্রম হয় স্টেশনটি। এলাকাবাসীর দাবীর ফলে সেখানকার সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বিষয়টি নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখেন। অবশেষে সকল সমস্যার সমাধান করে স্টেশনটি সচল করেন।

১৫৯ বছরের পুরোনো এই স্টেশন শুধু একটি রেলযাত্রার স্থান নয়; মিরপুরের ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নগর বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িত। এ কারণেই স্থানীয় মানুষের কাছে মিরপুর রেলস্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা।

দীর্ঘদিন পর মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন স্টেশনটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও বিশেষ কয়েকটি ট্রেন স্টেশনে থামার দাবীও এলাকাবাসীর।

এদিকে মিরপুর ভেড়ামারা আসনের সংসদ সদস্যের সহকারী মেহেদী হাসান মুকুল বলেন, মিরপুর উপজেলা শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এই রেলওয়ে স্টেশনটি বিগত প্রায় ১১৬ বছরের ইতিহাসে ছিল চরমভাবে অবহেলিত ও অবকাঠামোগতভাবে অনুন্নত। এই অচলাবস্থা দূর করতে সংসদ সদস্যের উদ্যোগে স্টেশনটিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

১,০০০ ফিট দীর্ঘ আধুনিক প্ল্যাটফর্ম: যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ওঠানামার জন্য এক হাজার ফুট দীর্ঘ আধুনিক ও প্রশস্ত প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হবে।

দুই প্রান্তে রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় প্ল্যাটফর্মের উভয় প্রান্তে আধুনিক যাত্রীছাউনি (শেড) স্থাপন করা হবে। শহর থেকে সুপ্রশস্ত সংযোগ সড়ক ও উপজেলা সদর ও মূল শহর থেকে যাত্রীদের সহজে স্টেশনে যাতায়াতের জন্য আধুনিক ও প্রশস্ত প্রবেশদ্বার/সংযোগ পথ নির্মাণ করা হবে।

উন্নত নাগরিক ও যাত্রীসেবা,বিশ্রামাগার, আধুনিক শৌচাগার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, উন্নত আলোকসজ্জা ও টিকিট আধুনিক বসার স্থান সেবাসহ যাবতীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

মিরপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। কুষ্টিয়া ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল গফুরের কর্মকাণ্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সর্বস্তরের জনগণ তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন।