বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ মহাপরিচালক পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। নিয়োগ, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এখন শীর্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াই প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্থিরতা ও বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মহাপরিচালক পদ শূন্য হওয়ার পর কে এই দায়িত্বে আসবেন, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চললেও অভ্যন্তরীণভাবে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি প্রভাবশালী মহল নির্দিষ্ট একজন কর্মকর্তাকে এই পদে দেখতে চাচ্ছে-এমন অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকট হয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে সাম্প্রতিক নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ৭৫টি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং ভুয়া প্রার্থী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা আলোচনায় আসে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি বৃহত্তর অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। পদোন্নতি নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি উপেক্ষা করে কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সুবিধা প্রদান নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এ প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রি’র মতো জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এখানকার গবেষণা সরাসরি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ধান উৎপাদন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং কৃষি ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে ব্রি’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব বৃহত্তর কৃষি খাতেও পড়তে পারে। এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে সত্যতা উদঘাটন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ এবং নীতিনির্ভর সিদ্ধান্তই ব্রি’র জন্য সবচেয়ে জরুরি।