নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : শিক্ষা অধিদপ্তরের চলমান আজব নিয়মে (মারপ্যাঁচ) বিদ্যালয়ে শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে। দেখা যাচ্ছে, অনেকের অভিভাবক না থাকায় বা অভিভাবকের উদাসীনতায় অথবা হেফজ বা কওমি (ধর্মীয় শিক্ষা) সম্পন্ন করতে না পেরে বিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষায় এসে অধিদপ্তরের আজব নিয়মে ষষ্ঠ/নবম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন করতে পারছে না। যার ফলে শিক্ষা থেকে আজীবন বাইরে থাকতে হচ্ছে অসংখ্য ছেলেমেয়েকে। বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক জন্ম নিবন্ধনে বয়স কম বেশি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকে এই অনৈতিক কাজটি করে পরবর্তীতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। চিকিৎসকদের অভিমত, বয়স বাড়ানো বা কমানোর কারণে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি নেছারাবাদে দেখা গেল নাম: মোঃ সিফাতুল্লাহ, মাতা: শেফালি, পিতা: মোঃ ইব্রাহীম খান, স্থায়ী ঠিকানা- খান বাড়ী (বিষ্ণকারী), আলকীর হাট, সারেংকাঠী, নেছারাবাদ, পিরোজপুর। তার জন্ম তারিখ ০৫।০৩। ২০১০ হাওয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারছে না। ছেলেটির জন্ম নিবন্ধনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের কাছে সমাধানের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে তিনি শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন যুগ্ম সচিবের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, এ নিয়মের বাইরে যাওয়ার তাদের কোন সুযোগ নাই।

এই নিয়মের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গেলে জানা যায়, যদি কোন ছেলে মেয়ের বয়স (বর্তমান সময়ে) জন্ম নিবন্ধনে ২০১১- ২০১৫ এর মধ্যে হয় তাহলে সে ষষ্ঠ শ্রেণীতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। এখানে দেখা যাচ্ছে দশ বছরের নিচে মেধার কারণে যদি কোন ছেলেমেয়ে ৭ম/৮ম পড়তে চায় অথবা ১৪ বছর পার হয়ে যায় তাহলে সে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। অর্থাৎ, বয়স কম বা বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না। আর রেজিস্ট্রেশন না করতে পারলে সে নবম শ্রেণীতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। বাধ্য হয়েই পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন অভিভাবকরা এই নিয়মের পরিবর্তন করে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী অথবা ঝরে পড়ার ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।