গাজীপুরের টঙ্গীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ছয়জন এবং টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে আদালতে নেওয়ার সময় থানা এলাকায় রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে তার চার স্বজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিমে মশাল মিছিল, গ্রেপ্তার ৬

পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল বের করে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে গাজীপুর মহানগরের বড় দেওরা এলাকার মন্ডল মার্কেটের মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭), নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম (২৮) রয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারুক ছাত্রলীগের সদস্য, আলামিন সক্রিয় সদস্য, সাকিবুল হোসেন ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। শিহাবের কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবির তথ্য পুলিশ জানায়নি।

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফ হোসেন জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং অপর একজন থানা হাজতে রয়েছেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

টঙ্গী পূর্বে কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার, স্লোগানে আটক ৪

অন্যদিকে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ স্থানীয় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি আ. মতিনকে (৪৭) গ্রেপ্তার করে। তাকে রোববার আদালতে পাঠানোর সময় থানার এলাকায় তার স্বজন ও সমর্থকদের কয়েকজন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

Banned Chhatra League Holds Torch Procession in Tongi; 11 Arrested in Two Police Stations, 4 Relatives Detained Over Slogans._16x9

এ সময় পুলিশ চারজনকে আটক করে। তারা হলেন-টঙ্গীর মরকুন এলাকার আতিকুর রহমানের ছেলে মো. মাহদী হাসান (২৬), একই এলাকার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে হারুনর রশীদ (৩৪), মজিবুর রহমানের মেয়ে জহুরা বেগম (৫৫) এবং মো. কাউছার আলীর মেয়ে শারমিন সুলতানা (৩৭)।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছেন। মামলায় আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি দুজন পলাতক এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাকসুদুল আলম জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে নেওয়ার সময় তার স্বজনরা থানার এলাকার রাস্তায় স্লোগান দিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

ওসি আরও বলেন, থানার ভেতরে এ ধরনের স্লোগান দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, টঙ্গী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল, নাশকতা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে-এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।