# গরুর হাটের ইজারা নিয়ে টিটন, পিচ্চি হেলাল ও কিলার বাদলের সঙ্গে বিরোধ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলী করে হত্যার ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড। মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় তাকে গুলী করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের (ক্যাপ্টেন ইমন) শ্যালক। আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে নিজ ভগ্নিপতি ইমনের নির্দেশনায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র। এ ঘটনায় গতকাল অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে থানায় মামলা করা হলেও প্রতিপক্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসীর গ্রুপের কয়েকজনের নাম পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তারা হলেন-শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ডাগারি রনি। ঘটনার পর পুলিশ, র‌্যাব, ডিবিসহ গোয়েন্দারা তপরতা শুরু করেছে। যদিও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, টিটনকে গুলী করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে এ হত্যাকা- ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর অপরাধ জগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী হারিছ আহমেদ ও সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যার বদলা নিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড। সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ আহমেদ বর্তমানে দুবাই থেকে ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছেন। জোসেফ আহমেদ সরকার কর্তৃক পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে অন্যতম। এরআগে গত বছর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন। খুন হওয়া মামুন এবং টিটন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে। নিহত মামুন ও টিটন দুজনেই সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী সাঈদ আহমেদ টিপু, হারিছ আহমেদ এবং চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামী।পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, হত্যাকা-ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হয়েছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর বাইরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনার বিষয়ে নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত জানিয়েছিলেন, রাত পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলী চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলী করে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে পালিয়ে যায় তারা। গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাক মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরবর্তীতে আত্মীয় স্বজনরা মর্গে এসে টিটনের পরিচয় নিশ্চিতক করে।

অন্যদিকে এলাকা সূত্রে জানা যায়, এক সময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, জিগাতলাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন টিটন। ইমনের অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান সেনাপতি ছিলেন টিটন। ইমনের পক্ষে নানা অপরাধমূলক কর্মকা- পরিচালনা করতেন টিটন। সূত্রগুলো আরও জানায়, কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমন ও টিটনের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়। ধীরে ধীরে টিটনের প্রভাব কমে যায় এবং এলাকায় একক নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে ইমনের লোকজন। পরে গণঅভ্যুত্থানের পর কারাগার থেকে বের হলেও টিটন নিজ এলাকায় প্রবেশ করতে পারতেন না। ইমনের অনুসারীরাই তাকে এলাকায় ঢুকতে বাধা দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর বেলা পৌনে ১১টায় পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে প্রকাশ্যে গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয় পুলিশের একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন নাঈম আহমেদ টিটনের ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন। পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিটন তার অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তিনি একাধিক হত্যাকা-ে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা। ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাঈম আহমেদ টিটনের জন্ম ১৯৬৬ সালে। তার বাবার নাম কে এম ফখরুদ্দিন ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম, ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু ও আরমান কারাগার থেকে মুক্তি পান। মোল্লা মাসুদও দেশে ফিরে আসেন ভারত থেকে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরেন আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর। তারা তাদের পুরনো আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এতে জেলে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মূলত আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি দখলবাজির জেরেই তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। বেশ কিছুদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন, সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ ও ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল গ্রুপের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিষয়টি অনেকের মুখে মুখে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কুষ্টিয়া থেকে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। নজরদারিতে রাখা হয় আরও কয়েকজনকে। বিষয়টি টের পেয়ে দেশ ছাড়েন পিচ্চি হেলাল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি করে ইমন গ্রুপের সদস্যরা। তখন ইমন কারাগারে বন্দি ছিলেন। ওই ঘটনায় তারিক সাইফ মামুন আহত হলেও নিহত হন পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মিরপুরে নতুন করে গড়ে উঠেছে নতুন একটি আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্রুপ ‘ফোর স্টার’। এই গ্রুপের দাপটে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে মিরপুরের বাসিন্দারা। এ ছাড়া জামিনে মুক্ত হয়ে মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, ফার্মগেট, মতিঝিল, মগবাজার ও পুরান ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কয়েকজন। শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন, ইব্রাহিম, শাহাদাত ও মুক্তার মিলে গড়ে তোলে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’। এই সন্ত্রাসী গ্রুপটির গডফাদাররা বিদেশে থাকলেও তাদের হয়ে দেশে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় কাজ করছে প্রায় ১০০ স্থানীয় সন্ত্রাসী। সম্প্রতি ৫ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে মিরপুরের পল্লবী থানাধীন সাগুফতা এলাকার একে বিল্ডার্সে হামলা করে সন্ত্রাসী মামুনের ক্যাডাররা। হামলাকারীদের বেশির ভাগই উঠতি বয়সি তরুণ, কিশোর গ্যাং সদস্য। সবার হাতেই ছিল দেশি-বিদেশী অস্ত্র। একইভাবে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভাসানটেকে বেলায়েত হোসেনের বাড়িতে তা-ব চালায় কিলার ইব্রাহিম বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়াও আগারগাঁও এবং কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ-প্রকাশের নাম বলে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাচ্ছে থানা পুলিশ।

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম মাফিয়া ইমন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ঢাকার মাফিয়া ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ডেরায় বসে কলকাঠি নাড়ছেন। মোহাম্মদপুরের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ আন্ডারওয়ার্ল্ডে তৎপরতা চালাচ্ছেন। মালয়েশিয়া থেকে রাজধানীর ধানম-ি, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও হাজারীবাগ এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করছেন সানজিদুল ইসলাম ইমন। মোহাম্মদপুর ও আশপাশ এলাকায় নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী চালাচ্ছেন পিচ্চি হেলাল। ইতিমধ্যে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও খুনোখুনিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইমন, পিচ্চি হেলাল এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি হয়েছে। গত বছর ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই ইমন ও পিচ্চি হেলাল বাহিনীর মধ্যে আধিপত্যের লড়াই চলছে। একপর্যায়ে পিচ্চি হেলাল দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় মোহাম্মদপুরের নিয়ন্ত্রণও চলে গেছে ইমনের হাতে। সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ গ্রেপ্তারের পর মামুন ওইসব এলাকার নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিলেন। ওদিকে ক্লাবপাড়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপের সদস্যরা। উল্লেখ্য যে পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে পিচ্চি হান্নান ও চিকনা মনির বন্দুকযুদ্ধে এবং আলাউদ্দিন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিল।

এজাহারে যা আছে: নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, টিটন হত্যার ঘটনায় মামলায় ৮-৯ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামী করেছে তার ভাই সাঈদ আহমদ রিপন। বাদী এজাহারে বলেন, দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি পায় আমার ছোট ভাই টিটন। সে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আমার সঙ্গে কথা বলতো। সে বলতো যে, বড় ভাই আমি আপনার অনেক আর্থিক ক্ষতি করেছি। এখন চেষ্টা করছি যাতে আপনাদের আর কোনো বদনাম না হয়। সেজন্য আমাকে দোয়া করবেন। আমি যেন ভালোভাবে কাজ করে জীবনযাপন করতে পারি। কিছুদিন আগে আবার অ্যাপের মাধ্যমে জানায়, বড় ভাই আমি একটা শিডিউল কিনছি। ইনশাআল্লাহ মোটামুটি কাজের মাধ্যমে থাকতে পারব। গত ২৬ এপ্রিল ফোন দিয়ে জানায়, আমার সঙ্গে ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ডাগারি রনিদের মোহাম্মদপুরের বছিলা গরুর হাটের ইজারার শিডিউল নিয়ে ঝামেলা চলছে। ২৭ এপ্রিল টিটন বলে, আমাকে ডাকছে উভয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য। এরপর ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে জানতে পারি যে, ঢাকা নিউমার্কেট শাহনেওয়াজ হলের সামনে থেকে আমার ছোট ভাই টিটনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

যা বলেছে ডিবি: গতকাল বুধবার বিকেলে ডিএমপির সদরদপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন টিটন নিজেও একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যাকা- হয়েছে। এই হত্যাকা-ের ঘটনায় কারা জড়িত সে বিষয় তদন্ত করছি। খোঁজখবর নিচ্ছি, যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে মোহাম্মদপুরের বছিলার গরুর হাঁট নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এই ঘটনায় পিচ্চি হেলাল ও কালা বাদলসহ অনেকের নামে উল্লেখ রয়েছে এ বিষয়ে জানেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মামলা হয়েছে। বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন আমরা কাজ করছি। আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আপনারা জানেন সামনে কোরবানি, গরুর হাট নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যাকা-ে করা জড়িত সেটি উদঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাট ইজারা কেন্দ্র করে হত্যাকা- আরও ঘটতে পারে। প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। হাট কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেই বিষয় তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হবে। বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতে এমন কর্মকা- অনেকেই করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যাদের এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হবে ইন্টারপোলে চিঠি দেওয়া হবে।