বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল (সার্ড) পরিচালিত ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন (বিএজিএড) প্রোগ্রামের ২৬১ টার্মের (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) ১ম, ৩য় ও ৫ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের ১৬টি স্টাডি সেন্টারের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের কার্যক্রম বাউবির আঞ্চলিক ও সংশ্লিষ্ট উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ওরিয়েন্টেশনের উদ্বোধন করেন বাউবির প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, বিএজিএড প্রোগ্রামটি বাউবির একটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম। কৃষি শিক্ষা খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই শিক্ষার্থীদের কৃষি বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদনশীল, লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিত করতে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিএজিএড শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। প্রোগ্রাম পরিচালনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষক, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং স্টাডি সেন্টারের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
প্রো-ভিসি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ, সময়মতো একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন এবং যেকোনো সমস্যা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শুধু সনদ অর্জন নয়; জ্ঞান, দক্ষতা, চিন্তাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে দেশের কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখা।
কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কৃষি শিক্ষা একটি যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলেও এর পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কারিকুলাম, ফি কাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে কৃষির মতো প্রায়োগিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের পথ বের করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাউবির কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, স্টাডি সেন্টারের সমন্বয়কারী, সহকারী সমন্বয়কারী ও শিক্ষকবৃন্দ এবং দেশের ১৬টি স্টাডি সেন্টারের বিএজিএড প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশ নেন।