জাবি সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু বিচার এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে প্রক্টর অফিসের পর এবার প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক ও অভ্যন্তরীণ প্রবেশপথ অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত না করতে সীমিত প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত ও গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ভাষ্য, গত কয়েকদিনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস ছাড়া কার্যকর পদক্ষেপের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিকেল ৫টা নাগাদ তিন দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্নের শর্তে খুলে দেওয়া হয় রেজিস্ট্রার ভবন।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানায়। তবে তারা আন্দোলনের সময় উপাচার্যের সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণেরও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শালীন ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
এরআগে গত ১৬ মে রাত ২টার দিকে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়ায় এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যায়িত করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ধর্ষণচেষ্টাকারীর দ্রুত গ্রেফতার ও উপাচার্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন অবশ্যই চলবে, তবে তা হতে হবে মার্জিত, শালীন।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, প্রশাসনিক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত—একপক্ষ প্রশাসনের দায় ও পদত্যাগের প্রশ্ন সামনে আনছে, অন্যপক্ষ বিচার দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের ভাষা ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সব মিলিয়ে বিচার, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে জাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।