ফিলিস্তিনী ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফিলিস্তিন দূতাবাস ও ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সভাকক্ষে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত মি. ইউসুফ এস. ওয়াই. রমজান এবং ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম কামাল উদ্দিন জসিম নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের পরিচালক এবং ইসলামী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া ১২ জন ফিলিস্তিনী ছাত্রীকে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এই সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিস স্থানীয় আয়োজক হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের ১২ জন ছাত্রীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের টিউশন ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রায় ৮৫,৫৫০ মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১,০৬,৯৩,৭৫০ টাকার সমতুল্য) সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ১২ জন ফিলিস্তিনী ছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ইতোপূর্বে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম চলমান মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনী শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতা, শিক্ষার সুযোগ এবং সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর ইসরাইলী নৃশংস হামলা ও হত্যাকা-েরও নিন্দা জানান। তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনী জনগণের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে এবং মানব কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত মি. ইউসুফ এস. ওয়াই. রমজান ফিলিস্তিনী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। ফিলিস্তিনের সার্বিক পরিস্থিতি, ইসরাইলী নৃশংসতা, গণহত্যা ও অমানবিক কার্যকলাপ সম্পর্কেও তিনি অতিথিদের অবহিত করেন। ফিলিস্তিনী জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।