ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত হলে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাকসু।

আজ ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের এই একতরফা সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক, অনভিপ্রেত ও ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

জাকসুর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসুর সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সম্মতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং তা জাকসুর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জাকসু মনে করে, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত হলের আবাসিক পরিবেশ বিনষ্ট করবে, অছাত্রদের অবস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং বিলুপ্ত হওয়া 'গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি'কে পুনরুজ্জীবিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া জাকসুকে বিতর্কিত করে বিশেষ কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, অধ্যাদেশ ও গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্তের দায় জাকসু বহন করবে না। প্রচলিত আইন ও অধ্যাদেশ সংশোধন না করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পরিপন্থী। জাকসু অবিলম্বেই এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছিল, পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা হলে অবস্থান করতে পারবেন।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জাবিতে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক ও সদস্যরা সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। শাখা ছাত্রদল ও শাখা ছাত্র শক্তি সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বিশেষ সুবিধা’ ও ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে অভিহিত করেন।