জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনাটির বিচারকে কেন্দ্র করে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে উপাচার্যের সঙ্গে একদল শিক্ষার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৭ মে) সংগঠনের সভাপতি মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মতলুবর রহমান রাসেল স্বাক্ষরিত এক যৌথ প্রতিবাদলিপিতে এ উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
একইসঙ্গে তারা উল্লেখ করেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছেন। এমন একজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যক্তিত্বকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে অভিহিত করা অনভিপ্রেত, কুরুচিপূর্ণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সম্মানজনক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, যুক্তি, মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার স্থান। এখানে মতভেদ ও প্রতিবাদ থাকবে, তবে তা অবশ্যই শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বজায় রেখে হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপাচার্য কেবল প্রশাসনিক প্রধান নন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক ও মর্যাদার প্রতীক। তাই যেকোনো দাবি বা ক্ষোভ গণতান্ত্রিক ও সভ্য পদ্ধতিতে উপস্থাপন করাই শিক্ষার্থীদের ঐতিহ্য হওয়া উচিত।
দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছে।