বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) গবেষণায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত থিসিস মূল্যায়ন ও মৌখিক পরীক্ষায় দুই গবেষকের গবেষণা সন্তোষজনকভাবে মূল্যায়িত হওয়ার পর বাউবির একাডেমিক কাউন্সিল তাঁদের গবেষণাকর্ম অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম পিএইচডি এবং দ্বিতীয় এমফিল ডিগ্রি অর্জনের গৌরব অর্জিত হয়েছে।
স্কুল অব এডুকেশনের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের গবেষক রোকসানা গুলশান ‘রবীন্দ্রচিঠিতে প্রকৃতি ও আত্মচেতনা’ শীর্ষক গবেষণার জন্য বাউবির ইতিহাসে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং বাউবির স্কুল অব এডুকেশনের অধ্যাপক ড. সোয়াইব আহমেদ। মূল্যায়ন বোর্ডের সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. চেঙ্গীশ খান। বহিঃসদস্য হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা।
মূল্যায়ন বোর্ডের মতে, গবেষণাটি রবীন্দ্রচর্চা ও বাংলা সাহিত্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিতে প্রকৃতিচেতনা, আত্মচেতনা ও জীবনদর্শনের বিভিন্ন দিক তথ্যভিত্তিক ও বিশ্লেষণধর্মীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে, স্কুল অব বিজনেসের গবেষক প্রনব কুমার বৈষ্ণব ‘Factors Influencing the Adoption of Green Management Practices in the Banking Sector of Bangladesh’ শীর্ষক গবেষণার মাধ্যমে বাউবির দ্বিতীয় এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ। বহিঃসদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (IUB) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং বাউবির স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক ড. শাহীন আহমেদ। মূল্যায়ন ও ডিফেন্স কমিটির সভাপতি ছিলেন স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম।
বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, রোকসানা গুলশান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং প্রনব কুমার বৈষ্ণব দ্বিতীয় এমফিল গবেষক। তাঁদের গবেষণা নিজ নিজ ক্ষেত্রে জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।