স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে নবাব সলিমুল্লাহর ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ ‘ইশারাত মনজিল’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল অডিটোরিয়ামে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে দূরদর্শী একজন নেতা ছিলেন। তাঁর চিন্তা ও উদ্যোগ আজও অনুপ্রেরণার উৎস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর অবদান গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর কর্ম ও চিন্তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। ‘ইশারাত মনজিল’ প্রকাশের মাধ্যমে ডাকসু সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস গ্রহণ করেছে।
ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর অবদান শুধু একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি শিক্ষার প্রসার ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘ইশারাত মনজিল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ডাকসু এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করবে।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। ‘ইশারাত মনজিল’ স্মারক গ্রন্থটি নবাব সলিমুল্লাহর অবদানের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পথচলার সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে পরিচিত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নন; তিনি এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার এবং অনগ্রসর মুসলিম ও হিন্দু সমাজের অগ্রগতির অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর অবদান ও চিন্তাধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব সবার।
তিনি বলেন, ‘ইশারাত মনজিল’ স্মারক গ্রন্থের মাধ্যমে নবাব সলিমুল্লাহর জীবন, কর্ম ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা আরও গভীরভাবে জানতে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর অবদান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে ডাকসু ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের ভিপি জায়েদুর হক, এফ রহমান হলের ভিপি রফিকুল ইসলামসহ ডাকসু, হল সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।