জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।

সোমবার (১৮ মে) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা থেকে বিক্ষোভ-মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই লেন অবরোধ করে সমাবেশ করেন।

এসময় জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীকে নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ১৫০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অথচ আসামির স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যন্ত বিষয়টি জানলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সুস্পষ্ট ব্যর্থতা।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি আসামিকে গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন মহলে চাপ প্রয়োগ করতেও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। একইসঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া ও চলমান আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষক সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী মহল সাংবাদিক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

সমাবেশে জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, জাবি শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রায় দেড়শ ঘণ্টা পার হলেও রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি—অবিলম্বে অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ফলে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।