ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্যাম্পাসের খাবার পানির সমস্যা সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছে ডাকসু। এদিকে কুয়েত মৈত্রী হলের সাম্প্রতিক ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আরো আতংক বিরাজ করছে। এমতাবস্তায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাকসু। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে ডাকসু নেতারা এ তথ্য জানান।

তারা জানান, হলের পানির নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে স্যাম্পল সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। খুব শ্রীঘ্রই সেই জটিলতা দূর করে পানির নমুনা সংগ্রহ করে কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। ডাকসু নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার প্রশ্নে তারা আপসহীন অবস্থানে রয়েছেন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার, ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার।

ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। নিরাপদ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করার পরই সভা-সেমিনার কিংবা অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ডাকসু স্বাধীনভাবে পানির মান পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করেছি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা বিএসটিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। খুব দ্রুতই পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ শুরু হবে।

কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভিসি স্যার হল পরিদর্শনে এলেও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি কিংবা তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেননি। অন্যদিকে ডাকসুর প্রতিনিধিরা রুমে রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছে এবং অসুস্থদের জন্য প্রাথমিক ওষুধের ব্যবস্থাও করেছে।