বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে "জুলাই বিপ্লব: ছাত্র-জনতার অদম্য ঐক্য ও গণবিজয়ের ইতিহাস" শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অপরিহার্যতা ও জুলাইয়ের স্পিরিট টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রেক্ষাপট হঠাৎ করেই তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী সময়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, মোদিবিরোধী আন্দোলনসহ দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামের সমন্বিত রূপ হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।"

তিনি আরও বলেন, "খুনি হাসিনা তার স্বৈরশাসনামলে এই দেশকে নিজের বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করেছিল। যার ফলে নিজের মতবিরোধী লোকেদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল।"
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, "ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণ বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন। যতবারই তাদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই তারা বিদ্রোহ করে বসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলার জনগণ কখনো দিল্লির আধিপত্য মেনে নেয়নি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি।"
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর অবদান এখানে ছিল না।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান সরকার গণভোটের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে নানারকমের তালবাহানা শুরু করে দিয়েছে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, জুলাই প্রজন্ম হারিয়ে যায়নি বরং তারা ধীরে ধীরে পরিপক্ব হচ্ছে। অতিদ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, নাহলে জুলাই প্রজন্ম আপনাদেরকে কোনো প্রকার ছাড় দেবে না।"
জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, "চব্বিশের জুলাইয়ে যেসকল শিক্ষক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছিল, তারা এখনও বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ছায়াতলে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "জুলাই সনদ নিয়ে বর্তমান সরকার তালবাহানা শুরু করেছে। আমরা চাই এসব ছলচাতুরী বাদ দিয়ে তারা দ্রুত জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে।"
জবি শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইনকিলাব মঞ্চ জবি শাখার আহ্বায়ক ও জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, জকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক মো. নুর নবী, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, সাবেক জবি শিবির সভাপতি মো. ইকবাল হোসাইন ও আসাদুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ জবি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।