ববি সংবাদদাতা: সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের টানা দুই দিনের আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়-রূপাতলী শাটল বাসসেবা চালু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে চালু হওয়ার পর থেকেই পর্যাপ্ত বাস না থাকায় সেবাটি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর বদলে নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। প্রশাসনের দাবি পর্যাপ্ত গাড়ি থাকলেও চালকের সংকটে আশানুরূপ সেবা দিতে ব্যহত হচ্ছেন তারা।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর তারা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে প্রথমে ১৫ মিনিট এবং পরে ৩০ মিনিট পরপর শাটল বাস চালুর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বাস চলাচল করায় পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষার্থী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাসে জায়গা না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

পরিবহন পুল থেকে জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকার দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়-রূপাতলী ও রূপাতলী-বিশ্ববিদ্যালয় রুটে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শাটল বাসসেবা চালু থাকবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস চলাচল করলেও যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা ও ট্রিপ পর্যাপ্ত নয়। ফলে বাসে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাসে জায়গা হচ্ছে না।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন“আমরা আন্দোলনের সময় আধা ঘণ্টা পরপর শাটল বাস চালুর দাবি জানিয়েছিলাম। বিকল্প হিসেবে ইকার সেবা চালুর দাবিও ছিল। তখন প্রশাসন আধা ঘণ্টা পরপর শাটল সেবা চালুর আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এক ঘণ্টা পরপর শাটল চালু করা হয়েছে। এর পেছনে প্রশাসনের কোনো যৌক্তিক কারণ আছে কি না, তা আমরা জানি না। আমাদের দাবি ছিল আধা ঘণ্টা পরপর শাটলসেবা চালু করা। প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ম্যানেজার মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত ড্রাইভার না থাকার কারণে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পরিবহন যা আছে, তাতে সমস্যা হওয়ার কথা না।”

অস্থায়ী চালক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি আমার হাতে নেই। প্রশাসন যদি নিয়োগ দেয়, তাহলে কাজ চালাতে সুবিধা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আগে এ ধরনের সেবা ছিল না। এখন যেহেতু চালু হয়েছে, সামনে ভালো কিছু হবে।”