বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক হঠাৎ করে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯ এপ্রিল বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি করে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল চলতি মাসের জন্য এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। পাশাপাশি সকল প্রকার জ্বালানি তেলের দামও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নাভিশ্বাস হয়ে পড়বে। এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে সাধারণ মানুষ যখন ইতোমধ্যে দিশেহারা, তখন এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কষ্টকর করে তুলবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি একটি অপরিহার্য জ্বালানি। এ অবস্থায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে রান্নার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। আমরা মনে করি, এটি একটি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। অবিলম্বে এ অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও একটি এক বিবৃতি প্রদান করেন। প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সম্প্রতি ঘোষিত নতুন দরে ডিজেল লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, অকটেন ২০ টাকা এবং পেট্রল ১৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ধরনের খাতওয়ারী মূল্যবৃদ্ধি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে। আমি সরকারের এই গণববিরোধী সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর। খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের আয় না বাড়লেও ব্যয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হবে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি খাতও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। সেচ, পরিবহন ও কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, এমনিতেই সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিবে। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”