সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি। এই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন আরও ২০০ জন রোগী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে (উত্তর ও দক্ষিণ) ৬০ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরে বাহিরে) ১০ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৭ জন, খুলনায় বিভাগে ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন ও রংপুর বিভাগে চারজন রয়েছেন।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৭৬৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এক হাজার ৬১৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ২২ হাজার ৪৪৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি মাসে আক্রান্ত ৭ হাজার ১৩৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ মহিলা। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগের বছরগুলোতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ছিল বেশ প্রকট। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। তার আগের বছর ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং প্রাণহানি ঘটেছিল ৫৭৫ জনের। এছাড়া সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়া ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিতে হবে।