আবিদুর রহমান মির্জাপুর, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। একদিকে মূল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জরাজীর্ণ দশা—সব মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৩১ শয্যাতেই বন্দি সেবা

উপজেলার প্রধান এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে মাত্র ৩১ শয্যা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। রোগীর চাপ বিবেচনা করে একে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া তীব্র জমি সংকট, আবাসন বা কোয়ার্টার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম।

শিল্পাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার জন্য

নতুন হাসপাতালের দাবি

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে গোড়াই শিল্প অঞ্চল, আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি চিকিৎসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিশাল এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ওই অঞ্চলে একটি নতুন সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। জরাজীর্ণ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক উপজেলায় ৫টি সরকারি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও প্রতিটি স্থাপনা বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র ৬টি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ২০-২৫টি ক্লিনিক বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে যা দ্রুত পুনঃনির্মাণ প্রয়োজন এবং অবশিষ্টাংশ সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা,পরিবার পরিকল্পনা সেবাও ব্যহত হচ্ছে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিত্র আরও ভয়াবহ : আজগানা ও বাঁশতৈল কেন্দ্র: ১৯৯৮ সাল থেকেই এই দুটি কেন্দ্র পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়েছে। বর্তমানে আজগানা কেন্দ্রটি একটি অস্থায়ী শেডে এবং বাঁশতৈল কেন্দ্রটি ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পুনঃনির্মাণ প্রয়োজন : গোড়াই, বহুড়িয়া, ভাতগ্রাম ও আনাইতারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনঃনির্মাণ করা প্রয়োজন।

জনবল ও পদের অভাব: লতিফপুর ও ভাওড়া ইউনিয়নে নতুন দুটি কেন্দ্র থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি না হওয়ায় কোনো কর্মী পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

নাগরিক ভোগান্তি ও প্রত্যাশা

চিকিৎসা সেবার এই বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জনবল নিয়োগ এবং জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কার করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা মির্জাপুরবাসীর।