দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে মারা গেছে ১ শিশু এবং উপসর্গে মারা গেছে ৭ শিশু। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৪২১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া সিলেট বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে মোট ২১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৪৩ শিশু।
এদিকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ২৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে ২১ হাজার ৪৩৪ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৯৫৫ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ ছাড়া এ সময়ে দেশে ৪ হাজার ৬০৩ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু; এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ দুই বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশ ৯ মাসের কম বয়সি। প্রতিবেদনে ১৬৬ শিশুর সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করা হয়, যাদের অধিকাংশই টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকা নেওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাম প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ৮৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে ১১৮ শতাংশ হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে ২২ শতাংশ থেকে থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১২১ শতাংশে পৌঁছায়। এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর হার কমে আসে। তবে ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানের ফাঁক ও ২০২০ পরবর্তী সম্পূরক কর্মসূচি বন্ধ থাকায় এমআর১ ও এমআর২ কভারেজ আবার কমে যায়।
সিলেট ব্যুরো: সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। এ নিয়ে গত দুদিনে সিলেটে ৫ শিশু মারা যায়। আর চলতি মাসে সিলেট বিভাগে এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, সকাল ৯টা ও ১০টায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ ছাড়াও নানা রোগে আক্রান্ত ছিলো শিশুটি। রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু তার। এরআগে শুক্রবার একই দিনে তিন শিশুর মৃত্যু হয় হামের উপর্সগ নিয়ে।
এদিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম-এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ১৯০ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কোন রোগী শনাক্ত না হলেও এই সময়ে ৬৪ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।