মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম , ফ্রান্স থেকে: ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলা টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস – শরৎ ২০২৬ শুরু হয়েছে। সোমবার প্যারিস-লে বুর্জে প্রদর্শনী কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। একই দিন বিকেলে মেলার হল ৩-এর বি ৩৩০ নম্বর বুথে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম. তালহা। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও প্যাভিলিয়ন পরিচালক মোহাম্মদ রেহান উদ্দিনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), কাউন্সিলর মাহফুজা সুলতানা, দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফত তারেকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস – শরৎ ২০২৬ মেলা ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান “মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট” এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের ৫৯তম সংস্করণে প্রায় ৩৫টি দেশ থেকে প্রায় ১,৩০০ নির্মাতা ও সরবরাহকারী অংশ নিচ্ছেন। প্যারিসের পার্ক দেজ এক্সপোজিসিয়োঁ দ্য প্যারিস-ল্য বুরজে-এর ২, ৩ ও ৪ নম্বর হলে এ আয়োজন চলছে।
বিশ্ব ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক, পোশাক উৎপাদক, ফ্যাশন ব্র্যান্ড, আমদানিকারক, ক্রেতা, ডিজাইনার এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। মেলায় টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিস ও অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিসের পাশাপাশি টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর ফ্যাশনের নতুন সমাধান নিয়ে অ্যাভানটেক্স প্যারিসও অংশগ্রহণ করছে।
টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিস অংশে আন্তর্জাতিক বয়ন ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারকেরা তাঁদের নতুন কাপড়, উপকরণ ও ফ্যাশন সামগ্রী প্রদর্শন করছেন। তুলা, ডেনিম, ড্রেপারি, এমব্রয়ডারি ও লেস, জ্যাকোয়ার্ড, নিটেড ফেব্রিক, লিনেন ও হেম্প, প্রিন্ট, শার্টিং, সিল্ক, স্পোর্টসওয়্যার ও কার্যকরী কাপড়, ট্রিমস ও অ্যাকসেসরিজ এবং উলসহ বিভিন্ন ধরনের টেক্সটাইল পণ্য এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। অন্যদিকে অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস অংশে তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের নির্মাতারা নারীদের পোশাক, পুরুষদের পোশাক, ক্যাজুয়াল ও স্পোর্টসওয়্যার, শিশুদের পোশাক, নিটওয়্যার, ইনটিমেট পোশাক এবং বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরছেন।
এবারের মেলাটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা, নতুন উৎপাদন উৎস খুঁজে বের করা, দ্রুত পণ্য সরবরাহ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এবারের মেলার আয়োজনেও। বৈশ্বিক সোর্সিং ব্যবস্থায় নতুন ভারসাম্য এবং সরবরাহকারী দেশগুলোর বৈচিত্র্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের প্রধান পোশাক ও টেক্সটাইল উৎপাদনকারী দেশগুলোর পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান সোর্সিং গন্তব্যগুলোর উপস্থিতিও এবারের মেলায় উল্লেখযোগ্য। চীন, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ইউরোমেড অঞ্চল মেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে আর্মেনিয়া, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও বুলগেরিয়ার মতো দেশও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরছে। এতে বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে বহুমুখী সোর্সিংয়ের প্রবণতা বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের জন্য এবারের প্যারিস মেলা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উদ্যোগে বাংলাদেশের ১২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল মিনিস্টার মিজানুর রহমান।
মেলার প্রদর্শক তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর মধ্যে বেঙ্গল গ্লোরি লিমিটেডকে অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিসের ২০২৬ সংস্করণের প্রদর্শক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি এবং পোশাকের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি শিল্পায়ন ও রপ্তানি বাণিজ্যেও এ খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ক্রেতার কাছে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পোশাকবাজার বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। কম উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং টেকসই ব্যবসায়িক ব্যবস্থা এখন ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ কারণে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প শুধু বৃহৎ পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের ও বেশি মূল্য সংযোজনকারী পোশাক উৎপাদন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। নিটওয়্যার, ডেনিম, স্পোর্টসওয়্যার, আউটারওয়্যারসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার দিকেও শিল্প উদ্যোক্তাদের নজর বাড়ছে।
ফ্রান্স বাংলাদেশের জন্য ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশেষ করে প্যারিস বিশ্ব ফ্যাশনশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিসে সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি, আমদানিকারক ও ফ্যাশন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।
মেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কাছাকাছি অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের ওপর বাড়তি গুরুত্ব। ইউরোপীয় ক্রেতাদের কাছে দ্রুত ডেলিভারি, কম পরিবহন ব্যয়, সরবরাহব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ কারণে তুরস্ক, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও পর্তুগালের প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ‘নিয়ার সোর্সিং হাব’ তৈরি করা হয়েছে। হল-৩-এর এই বিশেষ অংশে ইউরোপের কাছাকাছি উৎপাদনভিত্তিক সোর্সিংয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
টেকসই ফ্যাশনও এবারের মেলার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়। পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল, প্রাকৃতিক ও পুনর্ব্যবহৃত ফাইবার, জৈব উপকরণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং শ্রমিক অধিকারসম্মত উৎপাদনব্যবস্থার ওপর ক্রেতাদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। মেলার ‘ইকোনজি ফাইন্ডার’ উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই ও দায়িত্বশীল উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণকারী সরবরাহকারীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড পূরণকারী সরবরাহকারী খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও এবারের মেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অ্যাভানটেক্স প্যারিস অংশে স্মার্ট ম্যাটেরিয়াল, সার্কুলার সমাধান, অটোমেশন, পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ফ্যাশনশিল্পে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ তুলে ধরা হচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইন, উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহব্যবস্থা ও বাজার বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
এবারের আয়োজনে নতুন পণ্যখাতের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। চামড়া ও জুয়েলারি পণ্যের জন্য বিশেষ প্যাভিলিয়ন রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে টেক্সওয়ার্ল্ড ও অ্যাপারেল সোর্সিংয়ের মধ্যবর্তী অংশে একটি নতুন আউটডোর এলাকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০টি প্রদর্শক প্রযুক্তিনির্ভর কাপড়, অ্যাকটিভওয়্যার ও স্পোর্টসওয়্যারকে কেন্দ্র করে পণ্য উপস্থাপন করছে।
মেলার ট্রেন্ড ও ফ্যাশন পূর্বাভাসও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। শরৎ–শীত ২০২৭–২০২৮ মৌসুমের সম্ভাব্য ফ্যাশন প্রবণতা নিয়ে আয়োজকদের নতুন ট্রেন্ড বুক ‘অটপসি’ উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে সময়ের পরিবর্তন, সামাজিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ ফ্যাশনের সম্ভাবনাকে উপকরণ, রং, আকৃতি ও সৃজনশীল ভাবনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি ব্র্যান্ডগুলোর জন্য ‘স্মল কোয়ান্টিটি আইটিনেরারি’র মাধ্যমে এমন সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, যারা ছোট পরিমাণে কাপড়, পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ সরবরাহ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক আগ্রহকে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে নতুন ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য ইউরোপের বাজারে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উৎপাদন ব্যয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, পরিবেশগত মানদণ্ড এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে প্যারিসের “টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস – শরৎ ২০২৬” বৈশ্বিক পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে। একই ছাদের নিচে টেক্সটাইল ও কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ, টেকসই প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ ফ্যাশন ট্রেন্ডের সমন্বয় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। বাংলাদেশের জন্যও এ মেলা শুধু ক্রেতা সংগ্রহের সুযোগ নয়; বরং দেশের উৎপাদন সক্ষমতা, মান, টেকসই উদ্যোগ এবং নতুন প্রজন্মের পোশাকপণ্যের পরিচিতি বিশ্ববাজারে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।