বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি. নং বি-২২২৩)-এর ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত ডেলিগেটদের সর্বসম্মতিক্রমে কবির আহমেদকে সভাপতি এবং সেলিম পাটোয়ারীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান। ঘোষিত নতুন কমিটিকে উপস্থিত ডেলিগেটরা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানান।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, "জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে দেড় হাজারেরও বেশি শহীদকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। জুলাই গণআন্দোলনে ড্রাইভার, হেলপারসহ পরিবহন খাতের ৪০ জনেরও বেশি শ্রমিক শহীদ হয়েছেন। তাঁদের প্রতিও আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।"
তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিবহন খাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় এক কোটিরও বেশি পরিবহন শ্রমিক নিরলস পরিশ্রম করে জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। অথচ শ্রম আইনে ৮ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা নির্ধারণ থাকলেও বর্তমানে ৮৬ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হয় না। শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে টানা ২৪ ঘণ্টার বিশ্রামের বিধান থাকলেও ৯০ শতাংশ শ্রমিক সেই ছুটি পান না। চালকদের বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য করা হয়।"
সড়ক দুর্ঘটনার দায়ভার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "দুর্ঘটনা ঘটলেই কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই এককভাবে চালকদের দোষী করা হয়। অথচ একটি দুর্ঘটনার জন্য যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের অবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়ও থাকে। সব দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। শ্রম আইনের বিভিন্ন ধারায় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, তা একটি ‘কালো আইন’। মাথার ওপর সবসময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভয় ঝুলিয়ে রেখে নিরবচ্ছিন্ন সেবা আশা করা যায় না। অবিলম্বে এই কালো আইন প্রত্যাহার করতে হবে।"
পরিবহন খাতে দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "এ দেশে সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু মাফিয়া চক্র সব সময় ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে যায়। টার্মিনাল দখল, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সেক্টরকে কেন্দ্র করে আবারও দখল-বাণিজ্যের অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু এটি ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ। আমরা আর কোনো মাফিয়া চক্রকে পরিবহন সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করতে দেব না।"
সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি লোকমান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাশার, ঢাকা উত্তরাঞ্চল সভাপতি মনসুর আহমেদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মানবিক ড্রাইভার মহিউদ্দিন রিপন, পরিবহন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি কামাল উদ্দিন রায়হান এবং মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী মো. বেলাল হোসেন।