ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের (৩৮) মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএসএফের গুলিতে আহত আসাদুল হক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি নিহতের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক আহত হওয়ার পর ভারতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে কোনো কারণেই গুলি করে হত্যা করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থী।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার ও একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে বারবার প্রাণহানির ঘটনা দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশিত সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে। পাশাপাশি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।