বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা না করে সঠিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে হবে। দুনিয়াবি মোহের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে শিক্ষকতা ও কর্মজীবন পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মনজুরুল হকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরকারের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম এবং বাআশিফের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার সকল স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা আজকের সময়ের অত্যন্ত জরুরি একটি দাবি।’ শিক্ষকদের সমাজকল্যাণমূলক নির্দেশনা ও নৈতিক মানদণ্ডকে সামনে রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন, শিক্ষক সমাবেশ, অভিভাবক সম্মেলন এবং সুধী সমাজকে নিয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সকল প্রকার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

অমুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝেও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে শ্রেণিকক্ষে নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ৯টি শিক্ষক সংগঠনের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সকল স্তরের কমিটি পুনর্গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে কারিকুলামের প্রতিটি স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্যাতিত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ এবং পেশাগত ও নৈতিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ ড. শফিকুল আলম হেলাল, অধ্যক্ষ একরামুল হক ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যান্যরা।