বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ।’
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সিটি করপোরেশনের জবাবদিহি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদেরকে কেন শহরের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামতে হলো? এটা কি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়? নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ।’
তিনি বলেন, প্রতিবছর একই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। অনেক কিছু কাগজে-কলমে হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির যে শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন, তা ভেঙে পড়েছে।
এর আগে ২৭ আগস্ট প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাজেট, ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম, অভিযোগ নিষ্পত্তির হার এবং প্রতিবছর একই সংকট ফিরে আসার কারণসহ পাঁচটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব দাবি করেন বলেও জানান।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে হবে, এটাই আমাদের পরিষ্কার দাবি। সবার আগে সিটি নির্বাচন চাই।’
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাঝাভাঙা নির্বাচন কমিশন আমরা চাই না। কারও পা-চাটা ব্যক্তি হবেন না। চাটাচাটি বাদ দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা ব্যর্থতার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সরাসরি মিডিয়া কাভারেজের মাধ্যমে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান তিনি।
‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির বিষয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোনো রাজনৈতিক পয়েন্ট স্কোর করার কর্মসূচি নয়; নাগরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন থেকেই তারা মাঠে নেমেছেন।
তিনি জানান, গত কয়েকদিনে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশ, ড্রেনের মুখ ও খালের ধারে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিন ধরনের বর্জ্য আলাদাভাবে রাখার জন্য বিন স্থাপন করা হয়েছে।
সংগৃহীত বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কলম ও খাতা তৈরি করে ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল ছায়া সরকার গঠন করেছে। একইভাবে আমরা ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন গঠন করব। তবে সেটা কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে।’
ঢাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঢাকা সিটির দায়িত্ব পাই, তাহলে সরকার পুরো বিশ্বে তা নিয়ে গর্ব করবে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে কোনো বেকার যুবক থাকবে না।’
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন দেখতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে দেখতে পারে। দায়িত্ব পেলে এমন উন্নয়ন করা হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঢাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু দেখার জন্য হলেও জামায়াতকে পাঁচ বছর সিটির দায়িত্ব দিন। সরকার দেশ চালাক, আমরা ঢাকা সিটিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ নগরীতে গড়ে তুলি।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।