বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভারসাম্যহীন, অসীম ক্ষমতার অধিকারী ছিল বলেই শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রীর জন্ম হয়েছে। আমরা এমন একটা সংবিধান করতে চাই, যেই ক্ষমতায় যাবে সে যেন আর একটা হাসিনা হয়ে জন্ম নিতে না পারে। তাই আমরা সংবিধানের সংশোধন নয়,সংস্কার চাই। এখনও সময় আছে সংঘাত এড়িয়ে সংসদে এর সমাধান করুন।
গতকাল শুক্রবার সকালে নীলফামারী আল হেলাল একাডেমির হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন বিএনপি সরকার গঠন করার পর তাদের মধ্যে কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার সৃষ্টি হয়েছে। রক্ত দিয়ে অর্জন করা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জাতীর কাছে দেয়া প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করে যে ভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাতে করে দেশ একটা সংঘাতের দিকে চলে যাচ্ছে। আমরা আশা করছিলাম জুলাই সনদ,সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারসহ সব বিষয় সংসদে আনা হবে এবং বিরোধী দলের সাথে আলোচনা করে এই সংকট নিরসন করবেন,সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে জাতিকে রক্ষা করবেন। কিন্ত তারা তা করেনি।
তিনি বলেন বাংলাদেশের মানুষ জুলাই সনদের ভিক্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর করার জন্য সবাই এখন একমত হয়েছেন। শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ তে ভোট দিয়েছে। বিএনপি তাদের ৩১ দফার প্রথম দফায় বলেছিল আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন একটা কমিশন গঠন করব। এখন বলে সংস্কারের জন্য নয় সংশোধন জন্য কমিশন করব। সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্তি করছে বিএনপি। সংশোধন হচ্ছে বাক্য, শব্দ বা কিছু বক্তব্যের ছোট-খাটো সংশোধন অথবা পরিবর্তন। এটাতো জুলাই আন্দোলনের লক্ষ ও চেতনা ছিল না। আমরা চাই সংবিধানের পুরো কাঠামোকে পরিবর্তন করতে হবে। দর্শনগত ও বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন বিএনপি মনে করে গণভোটের রায় যদি কার্যকর হয়,সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তন হয় তা হলে বিএনপির আর দলীয়করণ, দুর্নীতি ও প্রধানমন্ত্রীর অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে সমন্ত সাংবিধানিক পদে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে দেশটাকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যেতে পারবে না। সেই কারণে বিএনপির তাদের প্রধানমন্ত্রীকে কর্তৃত্ববাদী রাখতে চান। এই কারণে তারা জুলাই সনদ নিয়ে ভিন্নমত পোষন করছেন এবং গণভোটের রায়কে মানছেন না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন দেশে আদিপত্যবাদি শক্তির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তারা বাংলাদেশ দখল করতে চায়, রংপুর দখল করতে চায়, চট্রগ্রামকে আলাদা করতে চায়,তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে,পুশইন চলছে। আপনারা নতুন করে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদি শক্তির আগমন সামলাবেন,দিলীøর ষড়যন্ত্র সামলাবেন নাকি ১১ দলের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে সামলাবেন। আপনারা আমাদের দাবি মেনে নেন বৃহত্তর স্বার্থে ভালো কাজে আমরা সব সময় আপনাদের সাথে থাকব সাহায্য করব। অন্য শক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশের ষড়যন্ত্র রুখতে হলে বিরোধী দল ও সরকারি দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সর্ম্পকে তিনি বলেন তিস্তা মহাপরিকল্পরা বাস্তবায়ন হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি । এটা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষ নানা ভাবে উপকৃত হবে। এই চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এটা বাস্তবায়নে যাতে কোন অপশক্তি বা বিদেশী শক্তি বাধার সৃষ্টি করতে না পারে এই ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ,নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার,জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম,নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ওবায়দুল্লাহ্ সালাফী,নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম,জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম,প্রচার সেক্রেটারি প্রভাষক ছাদের হোসেন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নীলফামারী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু ও আব্দুল কাদিম,সদর উপজেলা আমীর মাওলানা আবু হাসিফা শাহ,শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান আযাদ প্রমূখ।
এর আগে শুক্রবার সকাল নয়টায় একই স্থানে জেলা জামায়াত আয়োজিত উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্যদের ২ দিন ব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার।