কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে চলতি মৌসুমে নানা সবজির পাশাপাশি আবাদ করা হয়েছে পটল। এই ফসল ঘরে তুলে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখছেন কৃষকরা। ইতোমেধ্যে মাচা পদ্ধতিতে পটলের বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবুজ লতা-পাতার নিচে দোল খাচ্ছে উন্নত জাতের পটল। কেউ কেউ ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার অনেকে মাচা থেকে পটল সংগ্রহ করে বিক্রির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ মৌসুমে জেলায় শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা। এর মধ্যে পটল চাষ হয়েছে প্রায় ৫১০ হেক্টর জমিতে। তবে গত বছরে পটল আবাদে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এ বছর প্রায় ৮০ হেক্টর বেশি জমিতে এই সবজিটি বেশি আবাদ হয়েছে। পটল চাষিদের লাভবান করতে মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই-পোকা-মাকড় নিধন সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া অব্যাহত রাখছেন চাষিদের।

কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর গ্রামের কৃষক অনন্ত কুমার পাল জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৫৫ শতক জমিতে পটল চাষ করেছেন। পটল উঠানো পর্যন্ত ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হবে তার। ভালো ফলন হওয়া তিনি আশা করছেন প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মণ পটল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা বাজারে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, পানের বরজের চালের উপরে পটল গাছ লতার মতো বিছিয়ে আছে পটলও ধরেছে প্রচুর পরিমাণ।

কালিগঞ্জ উপজেলার মাটিকোমড়া গ্রামের কৃষক আয়নুদ্দিন, আব্দুল কাদের , এশার আলী, সাইদুর রহমান ও আমজাত আলী সহ আরো অনেকে দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে পটল চাষ করছি। পটল চাষ একটি লাভজনক ফসল। এই সবজি থেকে দ্বিগুণ লাভ করা যায়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় পটল চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখছি। বাজারে পটলের দাম ও চাহিদা ভালো থাকায় এই সবজির চাষ করছি। সঠিক নিয়ম মেনে ও পরিচর্যা করায় পটলের ফলনও অনেক ভালো হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে পটল চাষে লাভবান হবেন বলে আশা করছি আমরা। একটা মজার ব্যাপার হলো পটল গাছে আপনা-আপনি পটল ধরে না। মহিলা পটল গাছে ফুল আসলে পুরুষ পটল গাছের ফুল নিয়ে মহিলা পটল গাছের ফুলে ছোঁয়তে হয়। তারপর পটল হয়। এক কেজি পটল ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কালিগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ বলেন, পটল একটি সুস্বাদু তরকারি। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি পরিমাণ পটল আবাদ করছে কৃষক। তাদের লাভবান করতে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।