মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস
রংপুর বিভাগের চাষিদের স্বল্প ব্যয়ে আলু সংরক্ষণে অহিমায়িত মডেল ঘর এখন তাঁদের এগিয়ে যাবার অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই মডেল ঘরে তারা আশার আলো হিসেবে দেখছেন।
আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণনে অহিমায়িত মডেল ঘর কার্যক্রম এখন অপার সম্ভাবনার আশার আলো নিয়ে এসেছে রংপুর বিভােেগর চাষিদের জন্য। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকারের দেয়া প্রতিটি মডেল ঘরে প্রায় ৩০ মেট্রিকটন পর্যন্ত আলু সংরক্ষণের মাধ্যমে আলু চাষিদের বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। একটি অহিমায়িত মডেল ঘর তৈরি করে এর বহুমুখী ব্যাবহারসহ ১৫ বছর পর্যন্ত টানা ব্যবহার করা যাবে। আলুচাষীদের উপযুক্ত মূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বসতবাড়িতে আলু সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও রপ্তানী বাজার সম্প্রসারণ করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ পরিচালক এন এম আলমগীর বাদশাহ্ জানান, বর্তমানে আলু উৎপন্নে দেশের প্রথম সারির জেলা গুলোর মধ্যে রংপুর অন্যতম। তবে সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় এবং ভরা মৌসুমে ন্যায্য মুল্য না পাওয়ায় অধিকাংশ সময়ই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আলু চাষিরা। তাই কৃষকদের র্স্বাথের কথা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় আলু সংরক্ষণে রংপুর জেলার সদর উপজেলাসহ তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া এবং গঙ্গাচড়া উপজেলায় ইতোমধ্যে ৫ বছর মেয়াদী প্রকল্পের অধিনে ১২১ টি অহিমায়িত মডেল ঘর নির্মাণ করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এর মাধ্যমে চলতি মওসুমে ১ হাজার ৬’শ ৯৫ মেট্রিকটন আলু সংরক্ষন করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় ৭’শ ৫০ মেট্রিকটন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ২৫ টি অহিমায়িত মডেল ঘর নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। এখানে চলতি মওসুমে ২’শ ৮৩ মেট্রিকটন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের ”আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, এই প্রকল্পের অধিনে প্রথম পর্যায়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যায়ে এবং পরবর্তি পর্যায়ে এটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার করায় প্রতিটিতে ব্যায় হয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। অহিমায়িত এসব মডেল ঘর নির্মাণ করার মাধ্যমে চাষি পর্যায়ে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় মোট ৪২৭ টি অহিমায়িত মডেল ঘর তৈরি করে প্রায় ১২ হাজার ৮’শ মেট্রিকটনের বেশী আলু সংরক্ষণ করে রাখার সক্ষ্যমতা তৈরী করা হয়েছে। এর ফলে এসব মডেল ঘরে ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত আলু সংরক্ষণ করা যাবে, এতে লোকসানের শঙ্কাও কমবে বলে তিনি জানান, এসব অহিমায়িত মডেল ঘর পরিচালনার জন্য আলু চাষিদের মধ্য থেকে মডেল ঘরের জমি দাতাকে সভাপতি করে স্থান ভেদে ১০ সদস্য বিশিষ্ট স্থানীয় ভাবে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি চলতি অর্থ বছরের ৩০ শে জুন এর মেয়াদ শেষ হবে।
এই প্রকল্পের উপকার ভোগী আলু চাষি আব্দুস সালাম, আব্দুল হালিম, মিলন মিয়া, নজরুল ইসলাম, আবু সাইদ সহ চাষিরা জানান, প্রতি বছর আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও এখন অহিমায়িত মডেল ঘরে ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিকটন আলু সংরক্ষণ করে হিমাগারের তুলনায় দুই লাখ টাকার বেশি সাশ্রয় হচ্ছে। এতে চাষিরা উপকৃত হচ্ছে।
উল্লেখ্য চলতি মওসুমে রংপুর জেলায় ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ১৬ লাখ ৫ হাজার মেট্রিকটন আলু উৎপন্ন হয়েছে। রংপুরের ৪১ টি হিমাগারে আলুর ধারন ক্ষমতা রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন। হিমাগারের বাহিরে আলু সংরক্ষণ করতে মডেল ঘর অনেক কার্যকরী ভুমিকা রাখছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী চাষিরা।