চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় উৎপাদিত ধানের মাত্র ১.৪৪ শতাংশ ক্রয় করবে সরকার। চলতি মওসুমে উপজেলার ১৮ হাজার ৪,শ ৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উক্ত জমিতে এক লাখ ২৭ হাজার ১’শ ৬৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। উৎপাদিত ধানের মধ্যে সরকার ক্রয় করবে মাত্র ১৮’শ ৩১ মেট্রিক টন ধান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায় চলতি বোরো মওসুমে উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৈরী আবহাওয়ায় উঠতি পাকা ধানের ক্ষতি হলেও চৌগাছা উপজেলায় ধানের উল্লেখ করার মতো কোন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু এ উপজেলায় ব্যাপক ফলন হলেও সরকারি ভাবে খুবই যৎসামান্য ধান ক্রয় করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এভাবে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে উৎপাদিত ধানের মাত্র দেড় শতাংশ (১.৪৪) ধান সরকারি ভাবে ক্রয় করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে ঘোষণায় বলা হয়েছে একজন কৃষক মাত্র এক টন ধান বিক্রি করতে পারবে সেই হিসেবে উপজেলা থেকে মাত্র ১৮৩১ জন কৃষক ধান বিক্রি করার সুযোগ পাবে। অথচ ধান উৎপাদনের সাথে কমপক্ষে ৩০ হাজার কৃষক জড়িত। অতএব ধান উৎপাদনকারী অন্তত ৯৫ শতাংশ কৃষক সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশ আন্দোলনের তৎকালীন চৌগাছা থানার সভাপতি সরদার আনিচুর রহমান বলেন, চৌগাছা উপজেলায় যেহেতু বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়। সেহেতু এ উপজেলা থেকে সরকারি ভাবে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ ধান ক্রয় করা উচিৎ।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হুসাইন আহমেদ বলেন, এ উপজেলা থেকে খুবই কম পরিমান ধান সরকারি ভাবে ক্রয় করা হয়। কতৃপক্ষের উচিৎ চৌগাছা উপজেলা থেকে প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে কমপক্ষে এক টন করে ধান ক্রয় করা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন বলেন, আমরা উদ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট বেশি পরিমাণ ধান সংগ্রহের জন্য আবেদন করতে যাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, আরো বেশি ধান যাতে কৃষকেরা বিক্রয় করতে পারে সে ব্যাপারে চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি যাতে এ উপজেলা থেকে আরো বেশি ধান সরকারি ভাবে ক্রয় করা হয়।