বিশ্বে এবং বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত।

আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অবস্থা:

আজকের (১৭ এপ্রিল ২০২৬) আপডেট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির নতুন আশা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ইঙ্গিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর ফলে অপরিশোধিত (Crude) তেল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৮ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এখন ৯৪ ডলারের নিচে নেমেছে।

বাজার অস্থিরতার পেছনের কারণ:

যদিও আজ দাম কিছুটা কমেছে, তবে গত কয়েক মাস ধরে বাজার অত্যন্ত অস্থির ছিল। এর প্রধান কারণগুলো হলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে মার্চ মাসে তেলের দাম রেকর্ড ৫০ শতাংশ বেড়েছিল।

সরবরাহ ও চাহিদা: ওপেক প্লাস (OPEC+) দেশগুলো তেলের উৎপাদন কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ এখনও অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি:

আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়ে। যদিও আজকের খবরে বিশ্ববাজারে দাম কমার ইঙ্গিত রয়েছে, তবে গত মাসের শেষে (৩১ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

বিপিসি (BPC)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান দাম (লিটার প্রতি):

ডিজেল: ১০০ টাকা।

অকটেন: ১২০ টাকা।

পেট্রোল: ১১৬ টাকা।

কেরোসিন: তথ্য পাওয়া যায়নি (সাধারণত ডিজেলের কাছাকাছি থাকে)।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, কারণ এটি পরিবহন ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় তেলের বাজারের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা প্রয়োজন।