আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগামী জাহাজে অবরোধ আরোপের পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরানের পাল্টা হুমকির কারণে বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪.১৬ ডলার বেড়ে ৯৯.৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২.৫১ ডলার বেড়ে ৯৯.০৮ ডলারে পৌঁছেছে।

দিনের শুরুতে দাম আরও বেশি বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে, যা বাজারে চলমান অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যও বাজারে দোলাচল তৈরি করছে।

এদিকে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়েও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারগুলো অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় সহায়তা পরিকল্পনা নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।