রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। মাছ ও গোশতের দাম প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়েছে। এদিকে, ডিমের দামও তেমন কমেনি। একই সঙ্গে ৮০ থেকে একশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। মৌসুম শুরু না হওয়ায় শিমসহ কয়েকটি সবজি বাজারে আসলেও এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন নেই। সোনালি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর গোশত আগের মতোই ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিক্রেতাদের মতে, কোনো কোনো মাছের দাম একদিনে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবারও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে মাছের দাম স্থির থাকছে না।
বর্তমানে পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি মানভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।
রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে মাছের দাম বাড়ার মূল কারণ হলো সরবরাহ ও চাহিদার ওঠানামা। আড়ত থেকে যে দামে মাছ কিনে আনছি, তার ওপর নির্ভর করেই খুচরা দাম নির্ধারণ করতে হচ্ছে। কিছু মাছের দাম কমলেও তেলাপিয়া, পাঙাশ ও দেশি মাছের দামে এখনো ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা তুহিন মিয়া বলেন, ‘ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও মাছের দামে তেমন স্বস্তি নেই। একেক দিন একেক দামে মাছ বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাস আগের তুলনায় পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও বেড়েছে। সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি পেয়েছি, তবে শিম, টমেটো ও গাজরের মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো বেশি। সব মিলিয়ে বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েক সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া সবজির দাম এখন কমতে শুরু করেছে। বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিমের মৌসুম এখনো শুরু না হওয়ায় এটি সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া টমেটো ও গাজরের মতো কয়েকটি সবজির সরবরাহ কম থাকায় ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে পটল ৮০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ১২০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০-৭০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা ৪০-৫০ টাকা হালি এবং লাউ ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, রামপুরার বাসিন্দা মতিন আকন্দ জানান, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। পুষ্টি চাহিদা মেটাতে তিনি খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ডিম রাখেন। কিন্তু বাজারে গিয়ে ডিমের দাম বেশি দেখে আগের তুলনায় কম কিনছেন। তার মতো অন্যরাও প্রয়োজন হলেও কমিয়ে দিয়েছেন কেনা। বাজারে গত দুই সপ্তাহ আগে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। আর এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে এ মূল্যবৃদ্ধি ভোগান্তিতে ফেলেছে নিম্নআয়ের মানুষদের। গতকাল শুক্রবার দামের এমন ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ানবাজারে।
তবে দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন পাইকারদের ওপর। রামপুরা বাজারের ডিম বিক্রেতা সজল মল্লিক বলেন, আমরা প্রতি ডজনে ২-৬ টাকা লাভ করি। পাইকারিতে এখন চড়া দাম। বন্যা ও বিদ্যুৎ সংকটে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে। এ কারণে দাম ও বাড়তি। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, এই পণ্যটার দাম বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বন্যায় দেশের অনেক খামারি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।