১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এড়াতে পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহানগরের সকল প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিটকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে প্রস্তুত ও সুইপিং কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। ডিএমপি জানায়, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় থাকবে। পাশাপাশি ডিবি, সিটিটিসি, সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছেন। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত র্যাব ও সিআইডি টিম মাঠে মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী জানান, সাধারণ মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, অনুষ্ঠানস্থল, মেট্রোরেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশন ও শপিং মলসহ সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপির সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে থেকে নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন।
এদিকে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় কন্টাক্ট বা ইনফর্মার বা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার পেট্রলিং জোরদার করেছে র্যাব। বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। র্যাব আরও জানিয়েছে, কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে র্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৫১২
নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ৫১২ জনকে গ্রেফতার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী। তিনি জানান, যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৯ জন, লালবাগ বিভাগে ৪০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭০ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭১ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৪৭ জন, মিরপুর বিভাগে ১১৬ জন, গুলশান বিভাগে ৫৬ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৬ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১৭ জন রয়েছেন। অভিযানে ১ কেজি ২০৪ গ্রাম গাঁজা, ১৬ হাজার ৩৩৩ পিস ইয়াবা, ৫০ বোতল এস্কাফ সিরাপ ও ৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৫টি মোটরসাইকেল ও ১৫ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদকদ্রব্য ও আলামত উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।