দীর্ঘ দুই মাসের কাঁচামাল সংকট কাটিয়ে আবারও পুরোদমে উৎপাদনে ফিরছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। সৌদি আরব থেকে আসা ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ জাহাজ বুধবার কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।

জাহাজ ও তেলের পরিমাণ: ‘এমটি নাইনেমিয়া’ জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৯৪ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল ছিল, এর মধ্যে ১ লাখ টন খালাস করা হয়েছে।

উৎপাদন শুরু: বৃহস্পতিবার, ৭ মে বিকেল ৫টা থেকে ইআরএল পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করেছে। শুরুতে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মজুত ও পরবর্তী চালান: বর্তমান মজুত দিয়ে ২০-২৫ দিন পরিশোধন চালানো যাবে। ২০ মে’র পর আরও একটি চালান আসার কথা রয়েছে। সৌদি থেকে ১০-১২ মে’র মধ্যে নতুন চালান লোডিং হলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে না।

কেন বন্ধ ছিল রিফাইনারি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত দুই মাস কোনো ক্রুড অয়েলের জাহাজ দেশে আসেনি। কাঁচামাল সংকটে ১৩ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এবার বিকল্প রুট ব্যবহার করে জাহাজটি এসেছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির গুরুত্ব

ইআরএল প্রতিবছর ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল শোধন করে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০% পূরণ করে। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, এর ৯২% বিপিসি আমদানি করে।

প্রতিক্রিয়া

ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত জানান, “নতুন চালান আসায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরটিভি, মোহনা টিভি, ইনডিপেনডেন্ট টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, “তেল এলেও দাম কমে না কেন”, আবার কেউ উৎপাদন শুরুর খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

ইস্টার্ন রিফাইনারি চালু হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় স্বস্তি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।