প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র এথেন্সে পর্যটকের ঢল এখন আর শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বরং একটি গভীর নগর সংকটের ইঙ্গিত। সরু রাস্তা, প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা ও ঐতিহাসিক পাড়াগুলোতে পর্যটকদলের ভিড় শহরের স্বাভাবিক জীবনকে চাপে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে এথেন্সের মেয়র হারিস ডুকাস স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন—এথেন্স কোনোভাবেই ‘একটি বিশাল হোটেল’ হিসেবে চলতে পারে না। গত বছর এথেন্সে ৮০ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যেখানে শহরের স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র প্রায় ৭ লাখ। একসময় গ্রিক দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথে সাময়িক যাত্রাবিরতি হিসেবে পরিচিত এথেন্স এখন নিজেই পর্যটনের বড় গন্তব্য। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে আবাসনের ওপর। অ্যাক্রোপলিসের নিচে অবস্থিত ঐতিহাসিক এলাকা প্লাকায় স্বল্পমেয়াদি ভাড়াভিত্তিক আবাসনের সংখ্যা ২০১৮ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে বাড়িভাড়া আকাশছোঁয়া, স্থানীয় বাসিন্দারা কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া সমাজতান্ত্রিক মেয়র ডুকাস শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতি দেন এথেন্সকে সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলবেন। তার সময়ে শহরে ৩,৮৫৫টি নতুন গাছ রোপণ করা হয়েছে। তবে পর্যটনের লাগামহীন প্রসার সেই উদ্যোগকে হুমকির মুখে ফেলছে। ডুকাসের ভাষায়, অতিরিক্ত চাপে শহরের অবকাঠামো ভেঙে পড়ছে—বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, এমনকি ৫জি নেটওয়ার্ক নতুন করে গড়ে তুলতে হচ্ছে। তাই তিনি ঐতিহাসিক কেন্দ্র রক্ষায় প্লাকা এলাকায় নতুন হোটেল, স্বল্পমেয়াদি ভাড়া ও পর্যটনভিত্তিক সব ব্যবসা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রয়োজনে এটি আইন আকারে কার্যকর করা হবে বলে জানান।
তিনি বহুতল ভবন নির্মাণ, অবৈধ ছাদভিত্তিক বার ও রেস্তোরাঁর বিস্তারকেও নগরের চরিত্র ধ্বংসের জন্য দায়ী করেছেন। নতুন হোটেল নির্মাণের অনুমতিও স্থগিত করার ভাবনা রয়েছে। আশ্চর্যের হলেও, এ সপ্তাহে এই উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন গ্রিসের হোটেল মালিকদের সংগঠনের সভাপতিও। তিনি বার্সেলোনার উদাহরণ টেনে বলেন, পর্যটনের সীমা না টানলে শহরবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য, বার্সেলোনা ২০২৮ সাল থেকে ১০ হাজারের বেশি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার অনুমতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এথেন্স ও বার্সেলোনাসহ ইউরোপের ১৫টি শহর এখন আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি যৌথ হাউজিং অ্যাকশন প্ল্যানে কাজ করছে। মেয়র ডুকাস জানিয়েছেন, ইইউর অর্থায়নে একটি সামাজিক আবাসন অফিস গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ভবন সংস্কার করে তরুণ দম্পতিদের শহরের কেন্দ্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এথেন্স শুধু দর্শনার্থীদের জন্য নয়—এটি প্রথমে তার মানুষের শহর।