লাভাল নিউজ : মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা রোকেটসানের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত 'ডিএসএ ২০২৬' প্রদর্শনীতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়ার নির্মাণাধীন লিটোরাল মিশন শিপগুলোর (এলএমএস) জন্য নতুন প্রজন্মের সারফেস-টু-সারফেস 'অটমাকা' মিসাইল সরবরাহ করা হবে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত অনেক তথ্য গোপন রাখা হয়েছে, তবে বিভিন্ন সূত্রমতে মালয়েশিয়া প্রায় ৭৯.৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৬৯.২ মিলিয়ন রিঙ্গিত) ব্যয়ে ২৪টি অটমাকা মিসাইল সংগ্রহ করছে। ইস্তাম্বুলে বর্তমানে এই যুদ্ধজাহাজগুলোর নির্মাণকাজ চলছে। জাহাজগুলো তুর্কি নৌবাহিনীর বিখ্যাত 'আদা-ক্লাস' কর্ভেট ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের অধীনে মোট তিনটি যুদ্ধজাহাজ ২০২৭ সালের মধ্যে মালয়েশীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
কী এই 'অটমাকা' মিসাইল: তুর্কি শব্দ 'অটমাকা'-এর অর্থ হলো 'বাজপাখি'। এটি তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি সর্বাধুনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। মূলত মার্কিন 'হারপুন' মিসাইলের বিকল্প হিসেবে তুরস্ক এই সিস্টেমটি তৈরি করেছে। এতে আছে জিপিএস, ইনারশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম এবং রাডার অল্টিমিটার। যা ব্যবহার করে এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু আঘাত করতে পারে।এর ‘ডেটা লিঙ্ক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মিসাইলটি ছোড়ার পরও মিশন আপডেট করা, পুনরায় আক্রমণ করা বা প্রয়োজনে মিশন বাতিল করার সুবিধা রয়েছে। মিসাইলটি রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যেতে সক্ষম। এটি জিপিএস-বিহীন পরিবেশে এবং চরম প্রতিকূল ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
অটমাকা মিসাইলের কারিগরি শ্রেষ্ঠত্ব এই সমরাস্ত্রকে আধুনিক নৌ-যুদ্ধের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করেছে। প্রায় ৪৮০০ থেকে ৫২০০ মিমি দৈর্ঘ্যের এবং ৮০০ কেজির কম ওজনের এই মিসাইলটি ২৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এর দিকনির্ণয় ব্যবস্থায় ইনারশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (আইএনএস), জিপিএস, এবং রাডার অল্টিমিটারের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়, যা একে চরম প্রতিকূল ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা জিপিএস-বিহীন পরিবেশেও কার্যকর রাখে। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে এতে রয়েছে ‘সুপার সি-স্কিমিং’ সক্ষমতা, যার ফলে এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের অতি কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে। এছাড়া ২৫০ কেজি ওজনের উচ্চ বিস্ফোরক পেনিট্রেশন ওয়ারহেড এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের জন্য অত্যাধুনিক একটিভ আরএফ সিকার মিসাইলটিকে অত্যন্ত বিধ্বংসী করে তুলেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্কের তৈরি এই 'বাজপাখি' এখন মালয়েশিয়ার সমুদ্রসীমায় প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।