ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিকৃত কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেটার ভারতপ্রধানসহ ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কয়েকটি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য কনটেন্ট বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগে মেটার ভারতীয় শাখার প্রধান এবং কয়েকটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মোদির ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মেটার ভারতপ্রধান অরুণ শ্রীনিবাস এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একাধিক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে মামলা করে হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ ।

এসব মামলা করা হয়েছে দুই ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগকারীরা জানান, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বিকৃত ও ডিজিটালভাবে পরিবর্তিত ভিডিও এবং ছবি দেখতে পান। এসব কনটেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল, অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব পোস্টের মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিকৃত কনটেন্টে দেখানো অন্যান্য ব্যক্তিদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা, বিদ্রুপ ও অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে। এতে পোস্টগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, এসব কনটেন্ট ডিজিটালভাবে পরিবর্তিত অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কনটেন্ট জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে, ভুল তথ্য ছড়াতে, ঘৃণা বা জনঅস্থিরতা উসকে দিতে, জনশালীনতা ক্ষুণ্ন করতে, জনপরিচিত ব্যক্তিদের মানহানি বা মর্যাদাহানি করতে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড প্রযোজ্য আইনের বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘন করতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলো দায়ের করেছেন ২৯ বছর বয়সী ব্যবসায়ী এস অরবিন্দ রেড্ডি এবং তেলেঙ্গানা বিজেপির কর্মী টি সাইকিরণ গৌড়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও ফেসবুকে কিছু সময়ের জন্য ব্লক করে দেয়ায় মেটা সরকারের তিরস্কারের মুখে পড়েছিল।

এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের সুরক্ষার বিষয়ে দেশটির সরকারকে আশ্বস্ত করে মেটা। মোদির পোস্টের জন্য বর্ধিত সুরক্ষার রূপরেখা দিয়ে মেটা জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলো অতিরিক্ত তদারকির আওতায় আসবে। সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে শুধুমাত্র মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই এই ধরনের পোস্ট যাচাই করবেন।

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সর্বশেষ যোগাযোগের বরাত দিয়ে সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো সিদ্ধান্ত কোম্পানির অন্তত দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কঠোর যাচাই ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। সূত্র আরও জানিয়েছে, মেটা টিম চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করবে, যেখানে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

কিছুদিন আগে, দিল্লি পুলিশও একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য সম্বলিত পোস্ট এবং ভিডিও সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল, যা যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ মিছিলের সঙ্গে সম্পর্কিত সহিংসতার সময় আপলোড করা হয়। মোদিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর পোস্ট করার দায়ে কয়েকটি নিউজ পোর্টালসহ বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টকে নোটিশও জারি করেছে দিল্লি পুলিশ।