মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার হাজারো অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। আকস্মিক এ ঢলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তারা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সীমান্তে সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দেশের সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে শুধু অভিবাসন সংকটের কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।

সেউতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী স্পেনের সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের সংগঠনের প্রধান রাশিদ সিবিহি বলেন, "পরিস্থিতি পুরোপুরি বিশৃঙ্খল। কতজন প্রবেশ করেছে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়, তবে সংখ্যাটি কয়েক হাজার। সীমান্ত কার্যত ভেঙে পড়েছে।"

মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মরক্কোর তারাহাল (Tarajal) সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়। এরপর বিপুলসংখ্যক মানুষ স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত মানুষ সমুদ্রতীরের ব্রেকওয়াটার অতিক্রম করে সেউতার সড়কে প্রবেশ করছেন। তাদের অধিকাংশই তরুণ হলেও নারী, শিশু ও পরিবারও ছিল। অনেককে "ভিভা এস্পানিয়া" (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।

কী কারণে এত মানুষ একযোগে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগে বুধবারও বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এ সময় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।

মরক্কো সরকার এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কোর কর্তৃপক্ষ ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে এবং সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা অনেককে আটকাচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার সেউতা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংকট ২০২১ সালের মে মাসের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তখন মাত্র দুই দিনে ৮ হাজারের বেশি অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন, যা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

বর্তমানে সেউতার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ অবস্থান করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গত এক সপ্তাহে ১,৫০০ জনের বেশি অভিবাসী সেখানে পৌঁছানোর পর কেন্দ্রগুলোতে জায়গা না থাকায় অনেককে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নতুন করে হাজারো মানুষের প্রবেশে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সেউতা উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই মরক্কো হয়ে এই ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছেন।