বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর বিপদ নেমে আসে; তাদের মারধর করা হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব মূলত সরকারি দলের লোকেরাই করছে।’

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই একজন সিনিয়র নেতাকে। তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) বলেছেন, “আমরা হতাশ। পাঁচ মাসের এই সরকারের সময়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং বেড়েছে। তারেক রহমান ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত।” আমি বুঝলাম না! তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, তিনি চান না, অথচ দুর্নীতি সবাই করে—এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা দেখি, তার ইশারায় সব চলে। তাহলে তার ইশারায় এটা বন্ধ হয় না কেন?’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন, মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবকিছু একই কি না। আমরা তো দেখতে পাচ্ছি, একই। ব্যর্থতার দায় যখন স্বীকার করলেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে? নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে। তিনি তো প্রেসের সামনে খোলাখুলিভাবে বলেছেন, এটি কোনো গোপন কথা নয়। এটাই এই সরকারের আমলের বাস্তব চিত্র।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি গদিতে বসে বলছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেওয়া হলে তাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তাদেরই একজন হুইপ বলেছেন, দেশের বাইরে থেকে যে-ই আসুক, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না। বর্তমান সরকার বা তারেক রহমানের সরকার এটি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাঁদাবাজিকে দ্বিতীয় দফায় জাতীয় সনদ বা স্বীকৃতি দেওয়া হলো।’

তিনি বলেন, ‘তারা কোটি কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছেন। চাকরি তো দিয়েই ফেলেছেন—“টেম্পোস্ট্যান্ডের চাকরি”। এই চাকরি জনগণ চায় না, বরং ঘৃণা করে।’

ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দাবিগুলো তুলতে হচ্ছে, কারণ সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং অধিকার নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে। পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর বিপদ নেমে আসে; তাদের মারধর করা হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব মূলত সরকারি দলের লোকেরাই করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের ভেতরেই ভূত আছে। আর সরিষার মধ্যেই যদি ভূত থাকে, তাহলে তা তাড়ানো যাবে না। ইনশাআল্লাহ, এই বাংলাদেশ থেকে ভূত তাড়ানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত তো সবাই মিলে দিয়েছি। এটি কোনো গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। জুলাইয়ের এই অর্জন ১৮ কোটি মানুষের অর্জন। একে কোনো নির্দিষ্ট দলের অর্জন হিসেবে দাবি করা যাবে না। ১০ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে যে মা রাস্তায় নেমেছিলেন, তার দাবি ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শহীদরা জাতির সম্পদ। জাতির সম্পদ হিসেবে তারা আমাদের সবার সম্পদ। অবশ্যই জুলাইয়ের শহীদ ও তাদের পরিবারকে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। তাহলেই বীরের জন্ম হবে। যে দেশে বীরের জন্ম হবে, সেই দেশ কারও কাছে মাথা নত করবে না। আমরা কোনো আধিপত্যবাদের তোয়াক্কা করি না, কারণ এই বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতিই আমাদের লাভ-ক্ষতি।’

গণভোটের রায় নিয়ে ধানাইপানাই করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গণভোটের রায় বা জনগণের রায় অবশ্যই মানতে হবে। কারণ ৭০ শতাংশ জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। একে অস্বীকার করার অর্থ জনগণকে অপমান করা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও মজলুম ছিলাম, এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে যাব।’

শ্রমিকদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা শপথ নিয়ে যান—নিজে কোনো অন্যায় করবেন না, কাউকে অন্যায় করতেও দেবেন না।’