রাশিয়ার সঙ্গে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে ট্রাম্পের পূর্বসূরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি ডলারের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা পেয়েছে ইউক্রেন; কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।

যুদ্ধ বন্ধ সংক্রান্ত সংলাপ এবং খনিজ উপাদান হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার চুক্তি সইয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য চলমান সামরিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে বলে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় ভলোদিমির জেলেনস্কির কিছু মন্তব্য এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় তার 'অবিচল অবস্থানের' প্রতিক্রিয়ায় এ সহায়তা বন্ধ করা হতে পারে।

যদি এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তাহলে প্রেসিডেন্টের অনুমোদিত সামরিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দকৃত বিলিয়ন ডলারের রাডার, যানবাহন, গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ স্থগিত থাকবে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি), জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের সরাসরি সম্প্রচারিত আলোচনাটি অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তপ্ত তর্কে রূপ নেয়।

ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিষয়ে জেলেনস্কির 'অকৃতজ্ঞতা' নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেন, কিয়েভকে দেওয়া সহায়তার জন্য কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানায়নি ইউক্রেন।

এরপর বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয় এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই হোয়াইট হাউস ত্যাগ করে। এ বৈঠকের অংশ হিসেবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত চুক্তিটিও স্বাক্ষর হয়নি।