ইরানের হামলার আশঙ্কায় গত মাসে তুরস্ক সফর শেষে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত গোপনীয় ও নাটকীয় এক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাবার সরবরাহের একটি ট্রাকে লুকিয়ে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নেমে ছোট আকারের একটি সামরিক বিমানে উঠেছিলেন তিনি। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ প্লেনে যান। তবে ফেরার সময় তিনি ওই প্লেন ব্যবহার না করে এয়ার ফোর্স ওয়ানের পুরোনো একটি প্লেনে ওঠেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে ওই প্লেনে চড়তে দেখা যায়।
কিন্তু ট্রাম্প সেদিন দ্বিতীয় ওই প্লেনেও ফেরেননি। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের প্লেনে ওঠার কয়েক মিনিট পরেই খাবার পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে ট্রাম্পকে গোপনে নিয়ে যাওয়া হয় ছোট আরেকটি প্লেনে।
বিষয়টি এতটাই গোপন ছিল যে, সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউজের কিছু কর্মকর্তাও জানতেন না ট্রাম্প আসলে কোন প্লেনে রয়েছেন। তারা যখন মনে করছিলেন ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রয়েছেন, তখন তিনি আসলে ছিলেন তৃতীয় একটি প্লেনে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের কাছে জানতে চাওয়া হলে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চিয়াং সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, কাতারের দেওয়া প্লেনটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু ট্রাম্পকে নিশানা করছে বলে তিনি নিজেই দাবি করেছেন।
এর আগে, ২০০০ সালেও প্রায় একই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তানে যাওয়ার সময় একটি পরিচয়বিহীন প্লেন ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় তার আনুষ্ঠানিক এয়ার ফোর্স ওয়ানকে বিভ্রান্তিমূলক প্লেন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান