ভবিষ্যতে যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের চারটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও ইরানের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর (IRNA)-র বরাতে বলা হয়েছে, ৪ অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের মূল অগ্রাধিকার হবে—মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নয়ন, গোয়েন্দা সক্ষমতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, ‘প্রতিরক্ষা অর্থনীতি’ গড়ে তোলা এবং শিল্প অবকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি।’
‘প্রতিরক্ষা অর্থনীতি’ বলতে তিনি দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর, কার্যকর, কম খরচে উৎপাদনযোগ্য, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং ব্যাপক হারে তৈরি করা যায়—এমন সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এবন আল-রেজা বলেন, ‘অনেক বিশ্লেষক আজ বলতে পারেন যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্য এবং শত্রুর লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণে প্রতিপক্ষ কৌশলগত অচলাবস্থায় পড়েছে। কিন্তু এমন মূল্যায়ন আমাদের আত্মতুষ্টি বা নিষ্ক্রিয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আগের চেয়ে আরও বেশি গতি নিয়ে অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং প্রস্তুতির পথ অব্যাহত রাখতে হবে।’
দীর্ঘ কয়েক দশকের কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান তুলনামূলক কম খরচে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর ফলে স্বল্প ব্যয়ে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়, যেখানে সেগুলো প্রতিহত করতে প্রতিপক্ষকে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হয় বলেও তিনি জানান। এ প্রেক্ষাপটে দেশীয় উৎপাদন আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বও তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
সূত্র: আল জাজিরা