অনুবাদ : আফসার নিজাম
পার্নিয়া আব্বাসী ছিলেন তরুণ জেন-জি কবি। মাত্র ২৩ বছরের এই কবি জেন-জি’র কণ্ঠস্বর হিসেবে তরুণদের মধ্যে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ইংরেজি শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং একজন উদীয়মান কবি। তাঁর কবিতা ছিলো বৈশিষ্ট্যে মরমী ও অন্তর্মুখী। ২০২৫ সালের ১২-১৩ জুনের মধ্যবর্তী রাতে তেহরানের সাত্তার-খান এলাকার একটি আবাসিক ব্লকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পার্নিয়া আব্বাসী তাঁর বাবা-মা এবং ১৫ বছর বয়সী ভাইয়ের সাথে শহীদ হন। জানা যায়, ওই হামলাটি মূলত একজন পারমাণবিক প্রকৌশল অধ্যাপককে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিলো। পার্নিয়া আব্বাসীর কবিতা দুটি ‘সানা নাসারি’র ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপ দেওয়া হয়েছে।
একটি ম্লান নক্ষত্র
আমি কেঁদেছি দুইজনের জন্য
তোমার জন্য
আর আমার নিজের জন্য।
আমার অশ্রু-সিক্ত নক্ষত্রগুলো
তুমি তোমার আকাশে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দাও।
তোমার পৃথিবীতে: আলোর স্বাধীনতা
আর আমার এখানে: ছায়ার খেলা
কোথাও না কোথাও তুমি আর আমি
একসাথে শেষ হয়ে যাবো
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কবিতাটি
তখন নিস্তব্ধতায় ডুবে যাবে।
কোথাও হয়তো তোমার শুরু হবে নতুন করে-
তুমি চিৎকার করে গেয়ে উঠবে জীবনের গান।
আর হাজারো প্রান্তে আমার জীবনীশক্তি শেষ হবে
আমি দাউদাউ করে পুড়ে হয়ে উঠবো এক মøান নক্ষত্র
যা তোমার নীল আকাশে ধোঁয়া হয়ে মিলিয়ে যায়।
তোমার কাছে ফেরা
যখন তুমি আছড়ে পড়ো আমার তীরে
তোমার শরীর ছন্দময়ী মুক্তো হয়ে
বালুচরে ছড়িয়ে পড়ে চাহার নীড়ে।
আমি তখন বৈঠা বেয়ে ছুটে চলি তোমার দিকে
তোমার হাসির বড়শি তখন আমায় বিঁধি
যেমন করে মাছ ধরে যায় কারেন্ট জালে
আমিও হায় আটকে পড়ি তোমার প্রেমে।