হঠাৎ দেখি

ফরিদ আহমদ ফরাজী

হঠাৎ দেখি ঈশান কোণে

কালো মেঘের তুর

দমকা হাওয়ার পাগলামিটা

করছে যে ঘুর ঘুর।

কালো মেঘের পাহাড় ফেঁড়ে

বিজলি ভয়ঙ্কর

হঠাৎ দেখে চমকে উঠি

বুক কাঁপে থরথর।

এমন কেনো দুমড়ে মুচড়ে

মড়াৎ করে গাছ

এটা বুঝি কালবোশেখির

চিরচেনা সাজ।

বুবু

কুলসুম বিবি

বুবু আমার বড় সৌখিন

মিষ্টি একটা মেয়ে

মুখর করে রাখে বাড়ি

সদা নেচে গেয়ে।

মায়ের কাছে বাবার কাছে

হাজার বায়না ধরে

স্বপ্নদ্বীপটা হাতে চায় সে

রাত পোহালে পরে।

শত শখের মাঝে বুবুর

পাখি পোষার সাধ

পাখির জন্য বায়না ধরে

কেঁদে কাটে রাত।

বুবুর কান্না দেখে বলে

ছোট্ট সবুর মিয়া

কাল সকালে এনে দিব

ঘুঘু না-হয় টিয়া।

ছোট্ট একটা ময়না পাখি

লাগবে নাকি বুবুর

ধরবে বলে ময়না পাখি

ফাঁদ পেতেছে সবুর।

ইচ্ছে আমার

গিয়াস হায়দার

ইচ্ছে আমার উড়ে বেড়াই

নীল আকাশের নীড়ে

হারিয়ে যেতে আকাশ পানে

পাখির ঝাঁকের ভিড়ে।

দিনের সূর্য রাতের তারায়

আলো-আঁধার ঘেরা

বিধির বিধান চলছে জগৎ

মহান রবেই সেরা।

ইচ্ছে আমার সাঁতার কাটি

নদী সাগর জলে

ডালে বসে কোকিল সুরে

ঘুরি ফুলে ফলে।

ইচ্ছে আমার আঁধার রাতে

জোনাক হয়ে জ্বলি

পথহারা এই পথিক জনে

পথের দিশা বলি।

সবুজ শ্যামল মাতৃভূমি

রূপের নাহি শেষ

ইচ্ছে আমার যুদ্ধ করি

গড়তে নতুন দেশ।

শ্রমিক

শেখ একেএম জাকারিয়া

শ্রমিক, তুমি উড়াও ঘুড়ি, ঘুরাও কলের চাকা,

তবু কেন পাও না তোমার ন্যায্য, শ্রমের টাকা?

ভাগ্যটাকে বদল করো তুমি তোমার শ্রমে,

তোমার দাবি হয় না পূরণ, দিন কেটে যায় ভ্রমে।

শ্রমিক, তুমি নীরব কেন দুষ্টু লোকের ভয়ে?

আদায় করো ন্যায্য দাবি, আর যেয়ো না সয়ে।

শ্রমের দাম

জয়নব জোনাকি

মেহনতি শ্রমিক দেশের

অর্থনীতির প্রাণ,

উন্নতির এই গতি তাদের

শ্রমের অবদান।

শ্রমিক বুকে দীপ্ত শপথ

স্বদেশ গড়ার টান,

গতর খেটে দিনের শেষে

পায় না শ্রমের মান।

আকাশ পথে উড়ছে বিমান

যায় না দেখা তার,

তাদের গড়া সেতু দিয়ে

হচ্ছে পারাপার।

শ্রমজীবীর রক্তে ঝরা

সভ্যতার এ দ্বার,

এই সমাজে পায় না শ্রমিক

ন্যায্য অধিকার।

এই শহরে লেগে আছে

শ্রমজীবীর ঘাম,

ইটপাথরে খোদাই হয়ে

থাকবে তাদের নাম।

শোধ হবে না শ্রমিক ঋণের

কাটলে গায়ের চাম,

শ্রমিক তোমায় শ্রদ্ধা ভরে

জানাই যে সালাম।

ঘাসফড়িং

রাহেলা আক্তার

ঘাসফড়িং আজ এসে ঘরে

বসল টেবিল পেতে,

যেই না তাকে ধরতে গেলাম

উড়ল ডানা মেতে।

ফুড়ুৎ করে মেঝে বসে

দিচ্ছে হামাগুড়ি,

ওমনি তখন টিকটিকিটা

নেড়ে উঠল ভুঁড়ি।

ধপাস করে লাফ দিয়ে সে

ধরল ফড়িং চেপে,

রাগের চোটে চোখ উঁচিয়ে

ফড়িং গেল ক্ষেপে।

টিকটিকিটা বুঝতে পেরে

মাথা দিলো নুয়ে,

রাগ করো না, ক্ষেপা ফড়িং

বন্ধু হব দুয়ে।

হাত মেলালো দু’জন মিলে

ভুলে গেল রাগ,

একসাথে তাই খেলতে গেল

জমলো অনুরাগ।

কুকুরছানা

নূরুল ইসলাম মনি

পথের ধারে কুকুরছানা

করুন সুরে ডাকে

খুঁজে বেড়ায় মাকে

এথায় খোঁজে ওথায় খোঁজে

পায় না সে আর তাকে।

নিত্য রাতে যায় শোনা ঐ

চেল্লাখালির বাঁকে

খেঁকশিয়ালে হাঁকে

বৃদ্ধ শিয়াল হাড্ডি চূষে

গন্ধ আসে নাকে।

মাঠের পরে মাঠ ভরে যায়

সরষে ফুলের ঝাঁকে

গাছ ভরা কূল পাকে

হয় না জানা কুকুর ছানার

আম্মু কোথায় থাকে।

আমাদের গ্রাম

মো: আরাফাত হোসেন

আমাদের গ্রাম সবুজ শ্যামল

ফুল-ফসলে ভরা,

সবাই মিলে আপন করে

মায়া দিয়ে গড়া।

গাছগাছালি পাখপাখালির

সমাহারে আজ,

আমাদের গ্রাম ওই ঝলমলিয়ে

সাজছে নতুন সাজ।

মাঠের কোলে সোনার মানুষ

ফসল চাষে রত,

নতুন ফসল ঘরে উঠলে

ভুলে কষ্ট যত।

আমার গাঁয়ের সকল মানুষ

মিলেমিশে থাকে,

আত্মীয়তার বন্ধন সবে

অটুট করে রাখে।