গর্ত
সিদ্দিক আবু বকর
এ পাড়ার রাস্তায় ছিল এক গর্ত
অচানক অনেকেই গর্তেই পড়তো
গর্তে পড়ে পড়ে মচকাতো পা
কারো বা দাঁত ভেঙে পুরো মুখ হা!
এই নিয়ে কতবার দরবার বসলো
গর্তটা ঢাকতে কত লাগে, কষলো।
বসাবসি কষাকষি হিসাবেই আটকা
আলোচনা ইলিশে, মিলে শুধু জাটকা!
গর্তের মুখ খোলা পুরোটাই ফাটকা
আজও হাত পাও ভাঙে, বেদনা টাটকা।
দিন যায় মাস যায় সমাধান আসে না
এ পাড়ার লোকেরা প্রাণখুলে হাসে না
কারা যেন একদিন ঠিকঠাক জাগবে
গর্তের জ্বালামুখ ঢাকনাতে ঢাকবে।
আব্বাস খান
হামিদা আনজুমান
ওপাড়ায় বাড়ি তার আব্বাস খান
বাচ্চারা পিছু নেয় যেখানেই যান।
সারাদিন শ’খানেক খান ঝাল পান
ঝাল পান খেয়ে শেষে করে নাচ গান।
কাজ করো বললেই যায় নাকি মান
বিছানায় শুয়ে শুয়ে ধরে ঘুম-ভান।
ঘুম যদি নাই আসে চুলে দেন টান
ওঠবস করে পরে ধরে নিজ কান।
চাঁন মিয়ার মামা হয় আব্বাস খান
মুরগির ঝোলে তিনি খান বড় নান।
আকাশ জয়ের গান
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
আকাশ পানে পাড়ি গিয়ে
চাঁদ ধরিব হাতে,
নামবে তখন তারার মেলা
নিঝুম গভীর রাতে।
ডাকবে আমায় নীল পরীরা
উড়বো তাদের দলে,
আকাশ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে
চলবো সবাই বলে।
পবন-নায়ে পাড়ি দিয়ে
যাবো তারার দেশে,
হাজার হাজার উল্কা কুসুম
দেখবো উড়ে ভেসে।
নক্ষত্র-রাজ আমায় দেখে
ডাকবে চুপি চুপি,
বীর বলে আজ তোমার মাথায়
দেবো সোনার টুপি।
সবকিছু মা জয় করিয়া
বুকটা ভরে সুখে,
বীরের বেশে তোমার কাছে
ফিরবো হাসি মুখে।
মৌচাকের মধু
সুবাস চন্দ্র শুভ
জঙ্গলের ঐ গাছের ডালে
মৌমাছিদের বাসা,
মিষ্টি স্বাদের খাঁটি মধু
খেতে ভীষণ মজা।
ভন ভন করে যাচ্ছে উড়ে
মৌমাছিদের ঝাঁক,
আড়াল থেকে শুনছি আমি
দুষ্ট ছেলের ডাক।
অপু, তপু, আপন, শুভ
এক পা - দুই পা করে,
গামছা বেঁধে মাথা ঢেকে
গাছের ডালে ওঠে।
মৌচাকের ঐ মৌমাছিরা
নড়ে-চড়ে বসে,
ধোঁয়ার গন্ধে - ছটফটিয়ে
বেহুশ হয়ে পড়ে।