মাহবুবুল হক

৩০ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্তির দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিরোধীদলীয় চীফ হুইফ নাহিদ ইসলাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, যা এখন ‘টক অব দি কান্ট্রি’ বলে বিবেচিত হচ্ছে। লোকের মুখে মুখে চায়ের দোকানসহ যেকোনো মজলিসেই তার বক্তব্যের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে দারুণ আলোচনা হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তরুণরা যে পক্ষেরই হোক, একজন তরুণ জীবনের প্রথম সংসদে প্রদত্ত বক্তৃতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এত সুন্দর গোছালো বক্তব্য রাখতে পেরেছেন বলে তরুণরা উদ্দীপ্ত হয়েছে। তরুণরা সাধারণত ধারণা করতো সংসদে বক্তব্য দেয়া অনেক কঠিন ও জটিল। অনেক পরিসংখ্যান দিতে হয়। অনেক হিসাব করে কথা বলতে হয়। খোলামেলা সবকথা বলা যায় না। সমাবেশে বা জনসভায় গলা উঁচু করে, হাত প্রসারিত করে যেভাবে কথা বলা যায়, সংসদে সেভাবে বলা যায় না। ছোট ছোট বাক্য দিয়ে, ছোট ছোট উদাহরণ দিয়ে, ছোটছোট দৃষ্টান্ত দিয়ে যুক্তির সাহায্যে, জ্ঞানের সাহায্যে বলতে হয়। সবকিছু মাথায় রেখে তরুণরা যখন এনসিপির নেতা ’২৪ সালে আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নাহিদের কথা শুনেছে, তখন তারা উপলব্ধি করেছে এ কথাগুলো তো আমরাও সবখানে বলছি। তাহলে তফাতটা কোথায়? তারা অনুধাবন করেছে নাহিদ আবেগকে প্রশ্রয় দেয়নি, এমনকি যখন তিনি গ্রেফতারে থাকা তাঁর পিতার জামিনের জন্য নিজের মাকে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তখন তিনি আবেগকে প্রশ্রয় দেননি। তিনি নিজেই বলেছেন তখন তিনি মাত্র ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র। কারণ তখন এ ধরনের ঘটনা হাজার হাজার তরুণের জীবনে ঘটছিলো। এটা শুধু তাঁর একার জীবনে ঘটেনি। এটা তখন একটা নিয়মিত ফিচার ছিলো, কমন বিষয় ছিলো, তরুণরা লক্ষ্য করেছে প্রাইয়োরিটি কাকে বলে। প্রাইয়োরিটি কিভাবে ফিক্সআপ করা হয়। তরুণরা সাধারণত এসব ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যর্থ হয়। কোনটা আগে, কোনটা পরে, কোনটা মাঝখানে বলতে হবে, সেটা তারা সবসময় নির্ধারণ করতে পারে না।

সংসদে নাহিদের বক্তৃতা শুনে তারা উদ্বুদ্ধ হয়েছে, তারা শিখেছে কিভাবে পর্যায়ক্রমে কথা বলতে হয়। তিনি যখন বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছিলেন, তখন তাঁর বডি ল্যাংগুয়েজ, গলার স্বর, চোখের চাহনী সবই ছিলো উচ্চমার্গের। কিন্তু তা রসহীন কাঠিন্য দ্বারা আপ্লুত ছিলো না; বেসূরও ছিলো না, ছিলো উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মতো তাল ও লয় সমৃদ্ধ। সে সময় টেবিল থাপরানো যে আওয়াজ উঠছিলো তাতেও তিনি প্রকম্পিত হননি। উল্লোসিত হননি। এবং সত্যি কথা বলতে, প্রভাবিত হননি। সম্ভবত তাঁর বক্তৃতার সময় নির্ধারিত ছিলো মাত্র ২৪ মিনিট, সেটাকে তিনি চৌকস কায়দায়, বলতে গেলে অনেকটা অভিনব কায়দায় নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীসহ দু’জনের কাছ থেকে ১০মিনিট ধার করে ডিপুটি স্পিকারের কাছ থেকে সরলভাবে অনুমতি নিয়ে আরও অনেক কথা বলার থাকলেও সেসব কথা না বলে সময়মত ৩৪ মিনিটে তিনি তাঁর বিশাল বক্তব্য শেষ করেছিলেন। সাধারণত এত পয়েন্ট নিয়ে কথা বলার জন্য অন্তত এক ঘন্টা সময়ের প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু বিশ্লেষণে না গিয়ে পাহাড় থেকে দূর সমুদ্রে যাত্রার নদীর মতো শান্ত সমাহিতভাবে রাষ্ট্র, সরকার, দেশ ও দশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো তিনি উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন।

সংসদে নাহিদের বক্তৃতা সবার চেয়ে ভালো ছিলো বলে তরুণগণ বিবেচনা করছে না। এখানে বিবেচনার মূল বিষয় হলো মাত্র ১৮বছর বয়সে একজন তরুণ কিভাবে অল্প সময়ে এতকিছু রপ্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। যেখানে ৫৮বছর হলেও নির্দিষ্ট ছাত্র প্রতিষ্ঠানের নেতারা সেই পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না। তরুণরা আলোচনা করে একটি বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ‘চেয়ার ম্যাক্স এ ম্যান’ কথাটি কি পরিমাণ সত্য। মাত্র দু’বছরে একজন তরুণ অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পেরেছেন। তারা উপলব্ধি করেছেন চাপের মুখেই মানুষ প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, জীবনে ডেসটিনি বা লক্ষ্য স্থির থাকলে সত্যি সত্যি সিঁড়ি ভাঙতে তেমন বেহাল হতে হয় না।

নাহিদ নিজে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে অসংগতি দেখে দেখে তিনি জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে তাঁর অসুবিধা হয়নি। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, ছোটবড় সব আন্দোলনে সমভাবে যোগ দিতে গেলে কখনও নিজের প্রতি সুবিচার করা যাবে না। আন্দোলন বা সংগ্রাম করতে হলে মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে হবে। এলোমেলোভাবে ছুটলে কখনও কোনো সাফল্য অর্জন করা যায় না। সে কারণেই তিনি প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত কোনো ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেননি। যোগ দিলে দায়বদ্ধতার দিক থেকে, অবলিগেশনের দিক থেকে সকল বিষয়ে নাক গলাতে হবে। যেখানে ছাত্রদের নাক গলানোর কোনো প্রয়োজন নেই সেখানেও অপ্রাসঙ্গিকভাবে নাক গলাতে হবে। সময় নষ্ট করতে হবে। পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটাতে হবে। এ কারণেই তিনি এবং তাঁরা ছাত্ররাজনীতিতে নতুনত্ব এনেছিলেন। ব্যত্যয় ঘটিয়েছিলেন। ব্রেক থ্রু করেছিলেন। তিনি চুম্বক কথাগুলো বলেছিলেন, সাইড লাইনের কথা বলেননি। আলোর কথা বলেছেন, জোনাকির কথা বলেননি। একটা অর্জন চেয়েছেন, অনেক অর্জন নয়।

সে অর্জনটা ছিলো এবং যেটা এখনও আছে সেটা হলো, ‘ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক’। ফ্যাসিবাদ পালিয়েছে কিন্তু নিপাত হয়নি। কিন্তু নাহিদরা মনে করেছিলেন, পালালেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। তখন তাদের যে বয়স ছিলো, সে বয়সে এরচেয়ে বেশি ভাবনার কোনো স্কোপ তাদের ছিল না। কিন্তু দু’বছর পর নাহিদের বয়স ২৬-এর জায়গায় ২৮ নয়। বাস্তবে এখন তার বয়স হয়েছে অন্তত ৩৮ বছর। ছাত্রত্ব থেকে মেধা ও ধীমানতার কারণে কেউ কেউ চট্ করে শিক্ষক হতে পারেন। কিন্তু একেবারে মন্ত্রী হয়েছেন এমনতো দেখা যায় না। বিপ্লবের মূল ক্যাটালিস্টরা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়ায় তারা অনেক জেনেছেন, অনেক বুঝেছেন, অনেক সহ্য করেছেন। তারপর তারা দেশ ও দশের প্রয়োজনানুযায়ী বেরিয়েও এসেছেন। সরকারে যতদিন ছিলেন ততদিন একশ্রেণীর মানুষের ঘৃণার পাত্র ছিলেন। সমালোচনার তোপের মুখে ছিলেন। আলোচনার মুখোমুখি ছিলেন।

অপপ্রচারের চানমারিতে গুলিবিদ্ধ হচ্ছিলেন। সেখান থেকে সমস্ত ত্যাগ স্বীকার করে নিজেরা দল গড়তে চেয়েছেন, কারণ কোন দলেই তাদের ঠাঁই হচ্ছিল না। ঠাঁই হচ্ছিল ছোট ছোট দলে অর্থাৎ ট্রেন পার্টি, বাস পার্টি, মাইক্রোবাস পার্টি, মিনিবাস পার্টি, বেবিটেক্সি পার্টি, অটোরিক্সা পার্টি, এমন কি এদেশে সাইকেল পার্টিও ছিলো। বিপ্লবীরা অনেক হিসাব করে দেখেছে এইসব পার্টিতে প্রবেশ করার চেয়ে একমনাদের নিয়ে দল গঠন করলেই রাজনীতিতে অনেক সুবিধা হবে। বড় দু’টো দলে তাঁদের একতরফাভাবে প্রবেশ করা যেমন অসুবিধা ছিলো, বিভক্ত হয়ে প্রবেশ করারও সুবিধা ছিল না। কারণ বিপ্লবের বিষয়ে বিএনপি’র মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিলো। এখনও আছে। এখনও বিএনপি ক্লিন-ক্লিয়ার করে বলছে না আসো আমাদের দলে। আমরাতো তোমাদের সাথেই ছিলাম। বাকী জীবন আমরা একসাথে কাটাই। বললেও বিপ্লবীদের পক্ষে একজোট হয়ে বিএনপিতে প্রবেশ করা বাস্তব কোনো অবস্থা ও ব্যবস্থা ছিলো না। কারণ বিপ্লবের সময় থেকে খুব পরিষ্কারভাবে আন্দাজ করা যাচ্ছিল পতিত সরকারের সাথে এবং ভারতের সাথে তাদের কোনো না কোনো গোপন আঁতাত হয়ে গেছে। সারাদেশের সমস্ত তক্তে-তাউসে বিএনপিরা বসে গেছে। বিপ্লবের পরপরই কী সরকার গঠন করা হবে সে নিয়ে তারা চিন্তা-ভাবনা না করেই বলে বসলো, ‘প্রথমে নির্বাচন দিতে হবে’। এর বাইরে, তারা আর কোনোদিকে মুখ ফেরালো না। বিপ্লব শেষ হলো, এখন বিপ্লবী সরকার গঠন করা হবে এ নিয়ে বিএনপি মাথা ঘামালো না। তারা শুধু একতরফাই ইলেকশনের কথা বলতেই থাকলো। ফলে বিপ্লবী সরকার না হয়ে, হয়েছে জোড়াতালি মার্কা সাংবিধানিক সরকার। বিপ্লবের ঢেউ সেখানেই অবলুপ্ত হলো। এসব টালমাটালে ইসলামী দলগুলো চেয়েছিলো বিপ্লবীরা তাদের দলে যোগ দিক। কিন্তু সেখানেও রাস্তা বা পথ পরিষ্কার ছিলো না। বিপ্লবীরা একই আদর্শের অনুবর্তী ছিল না। তাদের আন্দোলন ছিলো বৈষম্য বিরোধী। তারা সমাজ থেকে, সরকার থেকে এবং রাষ্ট্র থেকে বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলো। ছাত্রদের, ছাত্রত্বের পর চাকরির ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলো। তারা কোটা সিস্টেমকে রিকাস্ট করতে চেয়েছিলো। রিফর্ম করতে চেয়েছিলো। তারা প্রান্তিকবাদী হয়ে কোটা সিস্টেমের অবসান চায়নি। সংস্কার চেয়েছিলো। ফ্যাসিবাদী সরকার প্রথম থেকেই আগবাড়িয়ে বলছিলো, এরা আর কেউ নয়, এরা মূলত সরকারের প্রকাশ্য শত্রু বিএনপি-জামায়াত। এরা সরকারের পতন চায়। জনগণের শত্রু এরা, এরা মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করতে চায়। স্বাধীনতাকে খতম করতে চায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততি ও প্রজন্মকে খতম করতে চায়। দেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। রাজাকারদের পুনর্বাসিত করতে চায় ইত্যাদি, ইতাদি। বিপ্লবীরা এসব প্রসঙ্গে ছিলই না। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার অবলুপ্ত ‘রাজাকার- মুক্তিযোদ্ধা ‘ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ভেবেছিলো, প্রসঙ্গান্তরে চলে গেলেই এই অভ্যুত্থান বা বিপ্লব স্তমিত হয়ে যাবে। কিন্তু কেন যেন জনগণ সেদিকে যায়নি। যতই সরকার রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের কথা উত্থাপন করেছে, ততই শিক্ষার্থীরা বিরক্ত হয়েছে, ক্ষুব্ধ হয়েছে, অসন্তুষ্ট হয়েছে, ততই তাদের মাতা-পিতা, ভাই-বোন ও নিকট আত্মীয় স্বজন শিক্ষাথীদের উত্তাল আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে।

এদিকে অমানুষিকতাবে অত্যাচার ও নির্যাতন দেশব্যাপী বিস্তৃত হওয়ায় বিপ্লবীদের অ্যাটিচিউড প্রান্তিক ধারায় প্রবাহিত হতে থাকে। বিপ্লবীরা একটা বিষয় পুংখানুপুংখভাবে উপলব্ধি করেছে, সরকার এবং সরকারের সহযোগীরা মিথ্যা, বানোয়াট ও আজগুবি কথা বলে দেশ, দশ, সমাজ, রাষ্ট্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব চুরমার করতে চায়। একে ঠেকাতে হবে। ঠেকাতে হলে এক দফা আন্দোলন করতে হবে। তাই তারা করেছে এবং সাফল্য লাভ করেছে। এর মাধ্যমে বিপ্লবীরা বা বিপ্লবের ক্যাটালিস্টরা অল্প সময়ে বহু কিছু শিখেছে। বহু কিছু জেনেছে। জীবনের যে সত্যগুলো আরও অনেক পরে জানার কথা সেগুলি তারা অল্প সময়ে আয়ত্ত করতে পেরেছে। যার প্রতিবিম্ব আমরা নাহিদ, হাসনাত আবদুল্যাহ, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ এদের তরুণ বন্ধুদের মধ্যে দেখতে পাই। তারই রিফ্লেকশন আমরা দেখি তাদের কথায়, বলায়, লেখায় এবং চালচলনে।

একটা কথা নাহিদ খুব জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের রাজনীতিতে একটা বড় বিষয় আছে সেটা হোলো, ‘সাথে থাকলে সঙ্গি, না থাকলে জঙ্গি’। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, বিএনপি দীর্ঘদিন জামায়াতের সাথে রাজনীতি করেছে। এখন তারা ভিন্নভারে রাজনীতি করছে। এ অবস্থায় তাদের মধ্যে কি, ‘সাথে থাকলে সঙ্গি, না থাকলে জঙ্গি’-এ কথাটি বলা যায়। এ বিভাজন নিরসনের দায়িত্ব বড় দলগুলোর। তিনি স্বাধীনতার ৫৪বছর পরও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। এর দায়ভার কে নিবে, বিএনপি? তাঁর এই প্রশ্নটি যুক্তিযুক্ত। তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। যেমন- মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ফাউন্ডেশন। এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের বিষয়টিও ভুলে যাওয়া যাবে না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিলো মুক্তিযুদ্ধের এ নবায়ন। এর সমাধান হিসেবে তিনি বলেন, ইতিহাসের এসব বিতর্ক একপাশে রেখে আমাদেরকে অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে।

এই যে কথাটি তিনি বলেছেন, এটা খুবই বাস্তবসম্মত কথা। দেশের কোনো মানুষই এ ধরনের কথার বিরুদ্ধে নেই। তিনি আরও বলেছেন, জুলাই সনদকে অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে বিএনপি। এটা যে কত শক্ত কথা দেশবাসী তা অক্ষরে অক্ষরে সহমত পোষণ করে এবং বিশ্বাস করে। কিন্তু এর প্রতিকারের কোনো উদ্যোগ এখনও বিএনপি গ্রহণ করেনি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আরো বলেছেন, আওয়ামী লীগ যেমন ৭২-এর সংবিধানকে দলীয় ইস্তেহারে পরিণত করেছিলো, একইভাবে বিএনপিও এখন জুলাই সনদকে ব্যবহার করছে। জুলাই গণভোট একটি রাজনেতিক সিদ্ধান্ত ও গণরায় ছিলো। সে রায় অনুযায়ী দ্রুত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত ছিলো। কিন্তু বিএনপি এখন সংস্কারের পথ থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনী ইশতিহারের দিকে মনোনিবেশ করেছে।

আমাদের ধারণামতে নাহিদ যদি বিএনপির এমপি হতেন বা হাসনাত আবদুল্যাহ যদি তার সাথী হতেন তাহলে সরকার দলে অবস্থান করেও তারা সরকার বা নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতা, প্রতিবাদ বা অন্যায়গুলো সরিয়ে দেয়ার বা সরিয়ে নেয়ার অবশ্যই চেষ্টা করতো। সবাই দলের চামচা হয় না। বেগম খালেদা জিয়া বা তার জীবনসঙ্গি শহীদ জিয়াউর রহমান বহুবার বলেছেন, ‘ব্যক্তি থেকে দল বড়, আবার দল থেকে দেশ বড়’। এমপিরা তো দলের এমপি নন। ন্যায়-অন্যায় যাই হোক, শুদ্ধ-অশুদ্ধ যাহোক তাদেরকে দলের ভৃত্য হতে হবে এমন কথা নেই। দেশ যেখানে বড়, ন্যায়-ইনসাফ যেখানে বড়, সুনীতির প্রশ্ন যেখানে বড়, সেখানে তো অবশ্যই এমপিদের দেশ ও দশের দিকে প্রয়োজনে বার বার ফিরে তাকাতে হবে। আমরা এই সংসদে দেখছি বিএনপির সম্মানিত সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সংসদে এবং সংসদের বাইরে নাহিদের মতোই কথা বলছেন। তিনি অনেক সাহসী কথা বলেছেন, বিএনপি এ যাবত যত ভুল করেছে বা ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তার সমালোচনা খুব খোলামেলাভাবে তিনি উল্লেখ করে দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এই সিলসিলা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।

লেখক : সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।