অ্যাডভোকেট আবু হাসিন
ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের আমাদের এ দেশে বসন্তের পর গ্রীষ্মকাল আসে উষ্ণতা নিয়ে। বস্তুত, গ্রীষ্ম হলো বছরের উষ্ণতম কাল, যা পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে সাধারণত জুন, জুলাই এবং আগস্ট জুড়ে অবস্থান করে। পৃথিবীর সর্বত্রই গ্রীষ্ম হলো কর্মোদ্যমের সময়। বিশেষ করে শীতপ্রধান দেশগুলোতে গ্রীষ্ম খুবই আরাধ্য ও কাক্সিক্ষত। কারণ সে সকল দেশে শীতকালে কোনো ফসল উৎপাদিত হয় না, গ্রীষ্মকালেই সব ফসল উৎপাদন করে মজুদ করতে হয়। সে জন্যই শীতপ্রধান দেশের মানুষ গ্রীষ্মের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন।
বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী প্রথম দু’মাস বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ জুড়ে গ্রীষ্মকাল। এ সময় সূর্যের প্রচণ্ড তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভূমি, পানি শুকিয়ে যায়, অনেক নদীই নাব্যতা হারায়, জলশূন্য মাটিতে ফাটল ধরে। মূলত, ইংরেজি এপ্রিল মাস সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। এ সময় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশি হতে পারে। গ্রীষ্মকালের শেষার্ধ্বে সন্ধ্যাসমাগত সময়ে ধেয়ে আসে বৈশাখী ঝড়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এসময় গাছে গাছে বিভিন্ন মৌসুমী ফল দেখা যায়, যেমন: আম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এর পরের ঋতুটিই হলো বর্ষাকাল। সেসময় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালীন সব তপ্ততা মিটিয়ে দেয়।
ষড়ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। পৃথিবীর আর কোন দেশে এমন ঋতুবৈচিত্র্য আছে বলে জানা যায় না। বাংলা ষড়ঋতুর শেষ ঋতু বসন্ত, যা ফালগুন ও চৈত্র মাস (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল) নিয়ে গঠিত। শীতের শেষে প্রকৃতির শুষ্কতা দূর করে নতুন পাতা, রঙিন ফুল এবং দখিনা বাতাসে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে বলে একে ‘ঋতুরাজ’ বলা হয়। ঋতুরাজ বসন্ত হলেও গ্রীষ্মকালেও আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক সমারোহ লক্ষ্য করা যায়। গ্রীষ্মে ফোটা ফুল হচ্ছে অর্জুন, ইপিল ইপিল, করঞ্জা, কামিনী, ক্যাজুপুট, গাব, জারুল, জ্যাকারান্ডা, তেলসুর, দেবদারু, নাগকেশর, নাগেশ্বর, নিম, পরশপিপূল, পলকজুঁই, পাদাউক, পারুল, পালাম, বনআসরা, বরুণ, বাওবাব, বেরিয়া, মাকড়িশাল, মিনজিরি, মুচকুন্দ, মেহগনি, রক্তন, সোনালু, স্বর্ণচাপা ইত্যাদি।
বাংলা প্রবাদে শীতের তীব্রতা বোঝাতে যেমন নানা উপমা-উৎপ্রেক্ষা ব্যবহার করা হয়, তেমনি গরম নিয়েও প্রবাদ-প্রবচনের কমতি নেই। ‘চৈত্রের খরতাপ’ কিংবা ‘জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ’-এ শব্দগুলোই বলে দেয়, বছরের একটি সময়জুড়ে এ অঞ্চলে গরমের প্রভাব কতটা পড়ে মানুষের জীবনে। বাংলা পঞ্জিকার চৈত্র মাস সাধারণত ইংরেজি পঞ্জিকার মার্চ ও এপ্রিল মাসের মধ্যে পড়ে। জ্যৈষ্ঠ মাস পরে ইংরেজি মে ও জুন মাসের ভেতর। আর এর মাঝেই এপ্রিল-মে মাসে পড়ে বৈশাখ মাস। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মিলে গ্রীষ্মকাল হলেও বাংলাদেশে গরম শুরু হয় মার্চ তথা চৈত্র মাস থেকেই। আর তা প্রলম্বিত হয় একেবারে শরৎকাল পর্যন্ত।
এ বছর মার্চে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে গরম অতটা টের পাওয়া না গেলেও এপ্রিলে, বিশেষ করে বৈশাখের শুরুতেই তাপপ্রবাহের দাপট টের পাওয়া যাচ্ছে ব্যাপকভাবে। এবার কতটা বাড়তে পারে তাপমাত্রা, আর গরমের তীব্রতাই বা চলতে পারে কতদিন? এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গ্রীষ্মকাল দু’মাসজুড়ে থাকলেও মূলত গরমের সময়টা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আর এবারের গরমের তীব্রতা হতে পারে অন্যবারের তুলনায় বেশি।
এবার বসন্তের পর কাকতালীয়ভাবেই দেশের আবহাওয়া অস্বাভাবিকভাবে উষ্ম হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই জনজীবনে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত লোড শেডিং। এবার ঝড়বৃষ্টির প্রাদুর্ভাব খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও তীব্র গরমে জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে বৈ কমছে না। এ অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা নিয়ে জনমনে নানা ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, আমাদের দেশে এপ্রিল মাসকে বলা হয় সবচেয়ে উষ্ণ মাস। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত এপ্রিল মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মে মাসের গড় তাপমাত্রা ৩২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মার্চ মাসে ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, এগুলো এ তিন মাসের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। যা মূলত ১৯৯১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত, মোট ৩০ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ বছরের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। অর্থাৎ, ওই গড় তাপমাত্রার আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা কখনো কখনো ৪২ ডিগ্রি পর্যন্তও উঠতে পারে, বিশেষ করে তাপপ্রবাহের সময়। তাই এ বিষয়ে আগাম সতর্কতা জরুরি মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সার্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিক বৃত্তে থাকলেও এবার বৈশাখের শুরুতেই তা বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৬ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টার তাপমাত্রার রেকর্ডে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর চুয়াডাঙ্গাতে বরাবরের মত প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সারাদেশে দুই থেকে চারটি মৃদু ও এক থেকে দু’টি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তখন কোথাও কোথাও ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী, বদলগাছী ও রাজশাহীতে। এদিকে আগামী তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল-জুনের মাঝে দেশে ছয় থেকে আটটি মৃদু এবং তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, কোনো এলাকায় যদি তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে তাহলে তাকে বলে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা যখন ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তাকে বলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে।
আমাদের দেশে আগে মার্চ থেকে মে মাস ছিল তাপপ্রবাহের সময়। কিন্তু মানবসৃষ্ট জটিলতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকে। তাই বিগত কয়েক বছরের মতো এ বছরের বর্ষাকালেও গরমের তীব্রতা থাকবে। এমন পূর্বাভাষই দিয়েছে আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, এ বছর গরম পড়লেও তা ২০২৪ সালের মতো তীব্র হবে না। কারণ হিসেবে বলছেন, এ বছর বজ্রঝড় বেশি হবে। ২০২৪ সালে বজ্রঝড়ের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় গত ৭৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে তীব্র গরম পড়েছিল দেশে। সাধারণত এপ্রিল মাসে গড়ে নয় দিন বজ্রঝড় হয় এবং মে মাসে হয় ১৩ দিন। তবে এসব কেউ কেউ এর সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলছেন, এবারে গরমের তীব্রতা বিগত বছরগুলোর সমান্তরালই হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘এবার প্রশান্ত মহাসাগর পার হয়ে যে পূবালী বাতাস বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করবে, তার গতিবেগ কিছুটা হলেও বেশি থাকবে। এ কারণে সাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবার ২৬ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাঝে ওঠানামা করার সম্ভাবনা আছে। এ ধরনের তাপমাত্রায় বিশাল জলরাশি থেকে বাষ্পায়নের হার, মানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ তারা বলছেন, ‘জলীয় বাষ্প বেশি হলে জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাসের ঊর্ধ্বগমন হয়, সারি সারি মেঘমালা তৈরি হয় ও বজ্রবৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, এল নিনোর (উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত) মতো কিছু বৈশ্বিক আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যও এই বজ্রঝড়ের জন্য ভূমিকা রাখবে।’
কোনো স্থানের তাপমাত্রা যদি অনেক বেশি বেড়ে যায় এবং সেখানে যদি বজ্রঝড় হয়, তাহলে প্রাকৃতিকভাবেই পরিবেশ ঠাণ্ডা হয়ে যায় অনেকটা। কিন্তু এমন কোনো নিয়মতান্ত্রিক বিষয় নেই, যা অনুসরণ করে সঠিকভাবে বলা যাবে যে ঠিক কতদিন পর পর তাপপ্রবাহ এবং বজ্রঝড় হবে। তার ভাষ্যে, ‘বজ্রঝড়, তাপপ্রবাহ-এগুলো আবর্তিত হতে থাকবে। কখনো কখনো রোদ-বৃষ্টি চরম আকার ধারণ করবে। তখন বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টির কারণে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ হবে।’
এবার মার্চ মাসে ও এপ্রিলের শুরুতে বেশ কিছু দিন ধরে প্রায় সারাদেশেই ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এটি হয়েছে বজ্রমেঘ থেকে বা গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা থেকে। দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টি ছিল। সবমিলিয়ে তাপমাত্রা হঠাৎ করে নেমে গেছে এবং মনে হয়েছে যেন ঠাণ্ডা পড়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ ধরনের বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা দুই থেকে ছয় ডিগ্রি নেমে যায়। তাদের মতে, ‘এটা প্রতিবছরই হয়। আগে এ রকম কখনো ঘটে নি এমন নয়। মার্চ, এপ্রিল ও মে জুড়ে এভাবেই চলতে থাকে। এটি বাংলাদেশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কখনো তাপমাত্রা একটু কম-বেশি হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির এ আবর্তন প্রতি বছরই ঘুরে-ফিরে আসে। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তনটা এত বছরে হয়েছে, সে কারণে আবহাওয়াগত একদম সঠিক সময়ে এটি না-ও হতে পারে।’ এদিকে সাম্প্রতিক এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এছাড়া, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে চলা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। আগামী কয়েকদিন ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তীব্র গরমে অতিষ্ট রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্প্রতি এক পূর্বভাসে আবহওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকার তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। রাজধানীর কোথাও কোথাও বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৮৭% হওয়ায় আগামী কয়েক দিন ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে, যা বৃষ্টির পর প্রশমিত হবে। পূর্বাভাসে বলা হয়, বৃষ্টির সময় বাতাসের গতিবেগ সাধারণ অবস্থায় ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিমি থাকলেও, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
মূলত, গ্রীষ্মকাল হচ্ছে গরমের মাস। তাই বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের আবহওয়া যে উষ্ণ ও অস্থির থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ধারা বর্ষা ও শরৎ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আর বৈশাখ মাসে তো কাল বোশেখী হওয়াই স্বাভাবিক। তাই সম্ভাব্য উষ্ণতায় আতঙ্ক নয় বরং এ সময় জীবনকে অপেক্ষাকৃত স্বস্তিদায়ক করতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার। বিশেষ করে আবহাওয়া বান্ধব পোশাক-পরিচ্ছদ, উষ্ণতা প্রতিরোধী আবাসন, খাদ্য তালিকা হালনাগাদকরণ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও যেকোন আপদকালের জন্য প্রাক প্রস্তুতি দরকার। মনে রাখতে হবে প্রকৃতির সাথে লড়াই করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়, জীবনকে গতিশীল করে।
লেখক : আইনজীবী ও প্রাবন্ধিক।