॥ ড. মো. নূরুল আমিন ॥
॥ ষষ্ঠ কিস্তি ॥
ইতিপূর্বের এক আলোচনায় আমি বলেছিলাম যে, যারা পাকিস্তান সফর করেন বা করবেন বাধ্যতামূলকভাবে তাদের তিনটি কবর/মাজার জিয়ারত করা উচিত। এর একটি হচ্ছে- পাকস্তিানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মাজার ও স্মৃতিসৌধ, দ্বিতীয়টি লাহোরের ইছারায় যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ও ইসলামী পুনর্জাগরণ ও ইকামতে দ্বীনের যুগশ্রেষ্ঠ সিপাহশিলার মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর কবর এবং তৃতীয়টি পাকিস্তানের জাতীয় কবি, ইসলামী দার্শনিক ও পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লামা ড. স্যার মোহাম্মদ ইকবালের কবর। করাচিতে কায়েদে আজমের মাজার জিয়ারতের কথা আগেই বলেছি। গত প্রায় আট দশকে এক শ্রেণির মানুষের বিরূপ অপপ্রচারে বাংলাদেশের কিছু কিছু মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং তা এখনো অব্যাহত আছে। যদিও সাম্প্রতিক বাংলাদেশে কায়েদে আজম ও পাকিস্তানের পুনর্মূল্যায়নের একটি জোর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়।
পাঠকদের কেউ কেউ কায়েদে আজমের ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা সংস্কৃতি এবং জীবন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা, বিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তিনি নামাজ পড়তেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এ প্রশ্নগুলোর সাথে আমি ওইসব ব্যক্তি ও দলের মিল পাই যারা গত প্রায় আট দশক ধরে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান ও অবাঙালি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-ভারতের করদ রাজ্য হবার সকল পরিকল্পনা প্রায় পাকাপোক্ত করে ফেলেছিলেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছেড়ে মুসলিম লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করে তীক্ষ্ন মেধা ও যুক্তি দিয়ে ব্রিটিশ শাসন এবং হিন্দু কংগ্রেসের বিরোধিতাকে পরাভূত করে পাকিস্তান সৃষ্টিতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
কায়েদে আজম ব্যক্তিজীবনে কতটুকু প্র্যাকটিজিং মুসলিম ছিলেন তা বলার উপযুক্ত ব্যক্তি আমি নই। তবে তার আন্দোলনের সহযোগী মাওলানা সব্বির আহমেদ ওসমানির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রখ্যাত আলেম ও তাফসিরকারক মাওলানা এহতেশামূল হক-এর ভাগনে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার হেড মাওলানা জাফর আহমদ ওসমানীর একটি বক্তব্য আমার মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন যে, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওসমানী করাচির একটি মসজিদে জিন্নাহ সাহেবকে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামায পড়তে দেখেছেন। শেষ জীবনে তার মধ্যে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার অনেক প্রভাবও দেখা গেছে। যেমন- পাকিস্তান হবার পর দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা তাকে পাকিস্তানের কনস্টিটিউশন কি হবে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। কায়েদে আজমের উত্তর ছিল ১৪শত বছর আগে পাকিস্তানের সংবিধান তৈরি হয়ে আছে, সেটা আল-কুরআন। এখন শুধু আসসুন্নাহ ও বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিয়াস ও ইজমার সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আইনের কোডিফিকেন প্রয়োজন। দুঃখের বিষয় পাকিস্তান হবার এক বছরের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি সংবিধান দেখে যেতে পারেননি। তার মাজারে ৯ খ- কুরআন সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে তাজ কোম্পানির মুদ্রিত কুরআন ছাড়াও মওলানা এহতেশামুল হক, থানবি, আল্লমা ইউসুফ আলী অনুদিত ফুটনোটসহ কুরআনের ইংরেজি ভাষ্য এবং মিশরের ইখওয়ানুল মুসলেমীনের নেতা হাসান আল বান্না রচিত এবং তাকে সশরীরে প্রদত্ত আরবি তাফসীরও আমরা দেখেছি।
কায়েদে আজমকে অনেকেই পাশ্চাত্যমুখী একজন নেতা হিসেবে জানেন। তিনি প্রাচুর্য্যরে মধ্যে বড় হয়েছেন। বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি পড়েছেন এবং পোশাকে-আশাকে তাকে পাশ্চাত্যপন্থী বলেই মনে হতো। কিন্তু স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার যে বক্তৃতা তা সম্পূর্ণভাবে মানুষের ধারণা পাল্টিয়ে দেয়। উদ্বোধনী ভাষণের সমাপ্তি অংশে তিনি যে দিকদর্শন দিলেন তা পশ্চিমা অর্থনীতির অন্তসারশূন্যতারই প্রমাণ ছিল। তিনি বলেছেন,
“The economic system of the West has created almost in solible problems for human beings across the world and to many of us it appears that only a miracle can save it from the disaster that is now facing the world. It has failed to do justice between man and man and to eradicate friction from the international field. On the contrary, it was largely responsible for the two world wars in the last half century. The Western world, in spite of its advantages of mechanization and industrial efficiency is today in a worse mess than ever before in history. The adoption of Western economic theory and practice will not help us in achieving our goal of creating a happy and contented people. We must work our destiny in our own way and present to the world an economic system based on the true Islamic concept of equality of mankind and social justice. We will thereby be fulfilling our mission as Muslims and giving to humanity the message of peace which alone can save it and secure the welfare, happiness and prosperity of mankind.”
অর্থাৎ পশ্চিমা ধাচের অর্থনীতি আজকে মানবজীবনে সমাধানহীন কতিপয় সমস্যার সৃষ্টি করেছে। আমাদের অনেকের মতে কোনো একটি অলৌকিক ঘটনা ছাড়া বর্তমানে পৃথিবী যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে তা থেকে মুক্তি পাবে না। এ অর্থনীতি মানুষে মানুষে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সংঘর্ষ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে এই অসাম্যই বিগত অর্ধশতাব্দিতে দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পশ্চিমা জগত তার যান্ত্রিক অগ্রগতি ও শিল্পক্ষেত্রের দক্ষতা সত্ত্বেও অনেকে ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বিশৃঙ্খল অবস্থায় নিপতিত। পশ্চিমা ধাচের অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ ও অনুসরণ একমুখী পরিতৃপ্ত জাতি গঠনে আমাদের যে লক্ষ্য কোনোভাবেই তার সহায়ক হতে পারে না। আমাদের জাতি-ভাগ্য আমাদের কাক্সিক্ষত পথেই গড়ে তুলতে হবে। আমাদের এ ঈস্পিত নিজস্ব মতবাদের ভিত্তি হবে ইসলামের প্রকৃত সাম্য-মৈত্রী এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই পথে আমরা মুসলিম হিসেবে এমন একটি আদর্শ মানব জাতিকে উপহার দেব যা সারা দুনিয়াতে শান্তি, নিরাপত্তা, মানবকল্যাণ ও সুখ-সমৃদ্ধির একটি মাত্র পথ হিসেবে ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে প্রদর্শন করতে পারবে।
কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূখণ্ড হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশও হতো না। এ হিসেবে তিনি বাংলাদেশেরও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু জিন্নাহ ও পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রায় সাত দশক ধরে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। জিন্নাহও পাকিস্তানের প্রশস্তি ও অপরিহার্যতা নিয়ে লেখা আমাদের কবি, সাহিত্যিকদের বই-পুস্তক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কবিতা, গান, নাটক-নাটিকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তন এসেছে। মানুষের মধ্যে এখন জিন্নাহ ও পাকিস্তান চর্চা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা শত্রু-মিত্র চিনতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হয়।
এখন মাওলানা মওদূদীর প্রসঙ্গে আসি। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিথযশা আলেম, খ্যাতনামা সংস্কারক, দাঈ, রাজনীতিক, দার্শনিক, লেখক, সাংবাদিক, সংগঠক ও বিশ্বের বৃহত্তম ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বৃটিশ ভারতের হায়দরাবাদ রাজ্যের আওরঙ্গাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ইন্তিকাল করেন। পেশায় আইনজীবী মাওলানা আহমদ হাসানের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। তারা ছিলেন চিশতি ধারার বংশধর। তার নামের শেষাংশটি চিশতি সিলছিলার প্রথম সদস্য খাজা সৈয়দ কুতুবউদ্দিন মওদূদ চিশতি থেকে তিনি পেয়েছিলেন। তিনি শৈশবেই তার পিতা তার দ্বারা নিযুক্ত গৃহশিক্ষকের কাছ থেকে আরবি, ফার্সি, ইংরেজি, উর্দু ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষাও গ্রহণ করেন এবং কুরআন-হাদিস, ফিকাহ, উসুল, ইসলামী আইন ও শরিয়া, রাসূল সা. ও খোলাফায়ে রাশেদীনদের সংগঠন তৈরি ও শাসন প্রণালী, শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভূমি আইন প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেন। কাজের সুবিধা ও আল্লামা ইকবালের অনুপ্রেরণায় তিনি প্রথমে আওরঙ্গবাদ থেকে পূর্ব পাঞ্জাবের পাঠানকোর্টে চলে আসেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর তার এলাকায় ও জিম্মায় থাকা মুহাজিরদের নিরাপদ হিজরত নিশ্চিত করে পশ্চিম পাঞ্জাব তথা পকিস্তানের লাহোরে হিজরত করেন। তার বসতবাড়ি ছিল লাহোরের ইছারার ৪/এ জিলদার পার্কে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো হাসপাতালে ১৯৭৯ সালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঐ সময়ে ঐ হাসপাতালে তার দ্বিতীয় পুত্র ডা. আহমদ ফারুক মওদুদী চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পিতার দেখাশোনা করতেন।
মাওলানা মওদূদীর জানাযা লাহোরের গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ড. ইউসুফ আল কারজাভির ইমামতিতে লাখ লাখ মানুষ এতে শরিক হন। মসজিদে নববীতেও তার ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো মাওলানা মওদূদীর গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। বলা বাহুল্য ৬৩১ সালে ইথিওপিয়ার (আবেসিনিয়া) রাজা নাজ্জাসীর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ (দ.) মসজিদে নববীতে তার গায়েবানা জানাযা পড়িয়েছিলেন। নাজ্জাসী একজন ন্যায়পরায়ন শাসক ছিলেন এবং কুরাইশদের দ্বারা নির্যাতিত মুসলমানদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। কুরাইশদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন মানেননি, পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
আগেই বলেছি মাওলানা মওদূদীর ইছারার ৪/এ জিলদার পার্কের বাড়িটি অত্যন্ত সাধাসিধে একটি বাড়ি ছিল। তার মৃত্যুর পর ইসলামী জমিয়তে তোলাবাকে তা দান করে দেয়া হয়। বাড়িতে প্রবেশ পথের ডানপাশে সাধারণ দুটি কবর। একটিতে তিনি আরেকটিতে তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম চিরনিদ্রায় নিদ্রিত আছেন। ১৯৩৭ সালে মাওলানার সাথে তার বিয়ে হয়। তখন তার বয়স ছিল ৩৪ বছর। তিনি দিল্লী জামে মসজিদের ইমামতির সাথে জড়িত বোখারী পরিবারের সন্তান ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মাওলানার অত্যন্ত প্রিয় ও শক্তিশালী সহধর্মিণী ছিলেন। তার ৯ সন্তানকে লালনপালন করেছেন, আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন। তার ফাঁসির আদেশ শুনেও ঘাবড়াননি, জেলজুলুমে টলেননি, বরং সাহস জুগিয়েছেন। তার লিখিত তাফসীর গ্রন্থ তাফহীমুল কুরআন ইসলামী সাহিত্যে এবং অনন্য সংযোজন। এ ছাড়াও তার লিখিত অন্যান্য শতাধিক বই ইসলামী বিপ্লবের পথকে ত্বরান্বিত করেছে, লাখ লাখ নয়, কোটি কোটি জন্মসূত্রের মুসলমানকে ইসলামী অনুশাসনকে পড়াশোনা করে প্রকৃত প্র্যাকটিজিং মুসলমানে পরিণত করতে সহায়তা করেছে। আধুনিক পাশ্চাত্য ও সেক্যুলার শিক্ষার মোকাবিলায় স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসায় তার তৈরি ইসলামী আন্দোলনের অনুসারী একদল সৈনিক তৈরি করার জন্য তার সক্রিয় উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ২৫ জন ছাত্র নিয়ে ইসলামী জমিয়তে তোলাবা বা ইসলামী ছাত্রসংঘ গঠিত হয়। এর প্রথম নাজেমে আলা ছিলেন জাফরুল্লাহ খান। একই তারিখে মাদরাসা ছাত্রদের জন্য গঠিত হয় জমিয়তে তোলাবায়ে আরাবিয়া নামক একটি সংস্থা। আবার ছাত্রসংঘের ছাত্রী উইং হিসেবে গঠিত ইসলামী জমিয়তে তালাবাত বা ইসলামী ছাত্রীসংঘ।
এ কথা অনেকেই জানেন না যে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠালগ্নে তৎকালীন পূর্ব বাংলা ছিল হিন্দু ব্যবসায়ী ও জমিদারদের হাতে জিম্মি। মুসলমান প্রজারা ঋণে জর্জরিত। সারা বিশ্বের ৮৫ শতাংশ পাট উৎপাদন হতো পূর্ব বাংলা। কিন্তু এখানে কোনো পাটকল ছিল না। পূর্ববাংলার পাটকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিম বাংলার হুগলির তীরে গড়ে উঠেছিল ১০৮টি জুটমিল। মাওলানা মওদূদী ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং শিল্প উদ্যোক্তারা এ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। ছাত্রসংঘের (ইসলামী জমিয়তে তোলাবা) প্রথম নাজেমে আলা জাফরুল্লাহ খানের নানা মাওলানা আমিন ছিলেন লাহোরের একজন ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি ও শিল্প উদ্যোক্তা। মাওলানা মওদূদীর নির্দেশে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে ৬৭ একর জমি কিনে সেখানে একটি জুট মিল প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম দেয়া হয় আমিন জুট মিলস লিমিটেড। ১৯৫০ সালে আদমজি জুট মিল এবং ১৯৫৩ সালে বাওয়া জুট মিল প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় জুট মিল হিসেবে আমিন জুট মিলের উৎপাদন কাজ শুরু হয়। এতে বাঙালিদের কোনো অবদান ছিল না। (চলবে)